
জনমতকে উপেক্ষা করে জবরদস্তিমুলক কায়দায় নেসকো কর্তৃক বাসা-বাড়িতে গ্রাহক শোষণ ও হয়রানির প্রিপেইড মিটার স্থাপনের প্রতিবাদে রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির গণঅবস্থান ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শনিবার (৯ মে) সকাল ১১ টায় মহানগর প্রেসক্লাব চত্বরে এই সমাবেশ ও গণঅবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়।
রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক মোজাহার আলীর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব এডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ এর সঞ্চালনায় সংহতি জানিয়ে বক্তৃতা করেন সাবেক পৌর চেয়ারম্যান কাজী মোহাম্মদ জুননুন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার, বাংলার চোখ এর চেয়ারম্যান তানবীর হোসেন আশরাফী, রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্য এডভোকেট খায়রুল ইসলাম বাপ্পী, আব্দুল জব্বার সরকার, আমিন মোস্তাজীর, মাহফুজ হোসেন, নিপীড়ন বিরোধী নারীমঞ্চের আহবায়ক বীথি দাস নন্দিনী, সংগঠক কনক রহমান, শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের সদস্য সবুজ রায়, আশিকুল ইসলাম, এডভোকেট নাসির উদ্দীন সুমন, সংবাদ কর্মী আসাদুজ্জামান আফজাল, ফরহাদুজ্জামান ফারুক, সমাজকর্মী নুরন্নবী বুলবুল, কৃষক সংগ্রাম পরিষদের সদস্য আব্দুস সাত্তার প্রামাণিক প্রমুখ।
গণঅবস্থান কর্মসূচির সভাপতি অধ্যাপক মোজাহার আলী রংপুর নগরীর বাসা-বাড়িতে নেসকো কর্তৃক জবরদস্তিমুলক প্রিপেইড মিটার সংযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগ একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। গ্রাহকদের স্বার্থের কথা বিবেচনা না করে বিদ্যুৎ বিভাগ লুটপাটের প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে অগ্রসর হচ্ছে।
এডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ বলেন, দেশের সকল নাগরিকের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু সেটির পরিবর্তে দফায় দফায় বিদ্যুৎ এর মুল্য বৃদ্ধিসহ নানা অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত জনগণের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে। দেশের কৃষি-অর্থনীতি তথা জনগণের স্বার্থে অবিলম্বে এই প্রকল্প বাতিল করা উচিৎ।
ভুক্তভোগী নুরুন্নবী বুলবুল বলেন, প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ করার সাথে সাথে মিটার ভাড়া, ডিমান্ড চার্জসহ নানা ফির নামে টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে। রিচার্জকৃত টাকা শেষ হওয়ার সাথে সাথে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে গ্রাহকদের স্বার্থ উপেক্ষিত হচ্ছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার বলেন, প্রিপেইড মিটার সংযোগ বাধ্য করতে নেসকো কর্তৃপক্ষ বাসা-বাড়িতে গিয়ে জরিমানাসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের হুমকি দিচ্ছে। এমনকি পূর্বতন মিটারের বিদ্যুৎ বিল সরবরাহ বন্ধ রেখেছে।
কৃষক আব্দুস সাত্তার প্রামাণিক বলেন, প্রিপেইড মিটার পদ্ধতিতে কৃষি অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ইতিপূর্বে আমরা বাকীতে বিদ্যুৎ নিয়ে ফসলের জমিতে সেচ কাজ পরিচালনা করেছি। ফসল তোলার পর বিক্রি করে পরিশোধ করেছি। এখন আর সেটি সম্ভব নয়।
রংপুর নাগরিক কমিটির সদস্য আব্দুল জব্বার সরকার বলেন, আগাম টাকা দিয়ে আমরা বিদ্যুৎ ক্রয় করবো আর কোম্পানিগুলো জনগণের অর্থ ব্যবসায় বিনিয়োগ করবে সেটি আমরা মেনে নিতে পারি না। এটা সেবামূলক খাতের ধারণার সাথে সাংঘর্ষিক।
সংবাদ কর্মী ফরহাদুজ্জামান ফারুক বলেন, প্রিপেইড মিটার যদি এতই জনবান্ধব ও সুবিধাজনক হয় তাহলে আগে সরকারি অফিস-আদালতে সংযোগ স্থাপন করুক। এরপর তারা জনগণকে এই মিটার সংযোগের আহবান জানাতে পারে।
বক্তারা, অবিলম্বে প্রিপেইড মিটার স্থাপন বন্ধ, বিদ্যুৎ খাতে বিগত সময়ের অনিয়ম-দুর্নীতি ও লুটপাটের শ্বেতপত্র প্রকাশ, গ্রাহক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গণশুনানি ব্যতীত সিদ্ধান্ত গ্রহণ বন্ধ এবং সাশ্রয়ী মূল্য নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহসহ বিভিন্ন দাবি জানান।
নেতৃবৃন্দ, অনতিবিলম্বে বিদ্যুৎ এর প্রিপেইড মিটার বাতিল করা না হলে নেসকো ঘেঁরাওসহ হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান।
মন্তব্য করুন