
লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট জিরো পয়েন্ট ধরলা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া দুই সহোদরের মধ্যে বড় ভাই সাব্বিরের লাশ উদ্ধার হয়েছে।
আজ সোমবার (৮ জুন)দ্বিতীয় দিনের মতো রংপুর ও লালমনিরহাট ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নদীতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখে।নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় উদ্ধারকাজে বেগ পেতে হয় ডুবুরি দলের,সুর্য্য ডোবার আগে মাঝ নদীতে একটি লাশ ভাসতে দেখেন উদ্ধার কর্মীরা,লাশ উদ্ধার করে নৌকায় তুলে নিশ্চিত হন বড় ভাই সাব্বিরের লাশ এটি।অপর লাশটির সন্ধানে ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, গতকাল রোববার দুপুরে তীব্র গরমের মধ্যে দুই ভাইসহ তিন বন্ধু মিলে বাড়ির পাশে ধরলা নদীতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে নদীর গভীর স্রোতে তারা তলিয়ে যেতে থাকলে পাড়ে থাকা এক ব্যক্তি মেহেদী নামে এক কিশোরকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন। কিন্তু নদীর তীব্র ঘূর্ণি স্রোতে সাব্বির ও শাওন চোখের পলকে তলিয়ে যায়। নদীর পাড়ে থাকা স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে তাৎক্ষণিক উদ্ধারের চেষ্টা চালায় এবং ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়।
খবর পেয়ে গতকাল রোববার বিকেল থেকেই লালমনিরহাট ফায়ার সার্ভিসের একটি দল উদ্ধারকাজ শুরু করে। পরবর্তীতে আজ সোমবার সকালে উদ্ধারকাজে যোগ দেয় রংপুর ফায়ার সার্ভিসের চার সদস্যের একটি বিশেষ ডুবুরি দল, দীর্ঘ ২৮ ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে সুর্য্য ডোবার কিছুক্ষন আগে বড় ভাই সাব্বিরের লাশ উদ্ধার করে ডুবরি দল।
নিখোঁজ দুই ভাই হলো-মোগলহাট বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের বড় ছেলে সাব্বির (১৬) ও ছোট ছেলে শাওন (১৪)। তারা দুজনেই মোগলহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের যথাক্রমে ৯ম ও ৭ম শ্রেণির ছাত্র।দুই ভাইয়ের নিখোঁজের ঘটনায় পরিবারসহ পুরো মোগলহাট বাজার এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সরেজমিনে মোগলহাট এলাকায় ধরলা নদীর পাড়ে গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। নিখোঁজ সন্তানদের ফিরে পাওয়ার আশায় নদীর পাড়ে বসে বুকফাটা আর্তনাদ করছেন মা-বাবা ও স্বজনরা। তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন প্রতিবেশীরাও।
উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে লালমনিরহাট ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রোকন উজ্জামান জানান, খবর পাওয়ার পর থেকেই ফায়ার সার্ভিস উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আজ সকাল থেকে রংপুর থেকে আসা ডুবুরি দলও এই অভিযানে যোগ দিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বৃষ্টির কারণে ধরলা নদীতে পানির গভীরতা অনেক বেশি এবং স্রোত অত্যন্ত তীব্র। এই তীব্র স্রোত ও নদীর তলদেশের ঘূর্ণিপাকের কারণে ডুবুরিদের কাজ করতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে, টানা উদ্ধার অভিযানে একজনের লাশ উদ্ধার হয়েছে,অপর লাশটি উদ্ধার না হওয়া প্রযন্ত উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন