
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার সদর ইউনিয়নের হাজী ডাঙ্গী কবরস্থানের নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় রাতের আঁধারে মাদকসেবীসহ অপরাধীদের অবাধ বিচরণ বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এরই মধ্যে কবরস্থানে স্থাপিত সোলার লাইটের প্যানেল, ব্যাটারি ও সোলার তার চুরি হয়ে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কবরস্থানের নিরাপত্তা ও রাতে আগত মানুষের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সেখানে সোলার লাইট স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু কয়েকদিন আগে দুর্বৃত্তরা রাতের আঁধারে সোলার লাইটের প্যানেল, ব্যাটারি ও সংযোগ তার চুরি করে নিয়ে যায়। এতে কবরস্থানটি বর্তমানে সম্পূর্ণ অন্ধকারে নিমজ্জিত রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই রাতের বেলায় কবরস্থানের আশপাশে মাদকসেবীদের আনাগোনা রয়েছে। পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় তারা নির্বিঘ্নে সেখানে অবস্থান করে এবং বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর কবর জিয়ারত করতে আসা মানুষজন ভীতি ও শঙ্কার মধ্যে থাকেন।
একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, কবরস্থান একটি পবিত্র স্থান। কিন্তু সেখানে চুরি ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত সোলার লাইট পুনঃস্থাপন, কবরস্থানের চারপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং নিয়মিত নজরদারির ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল বৃদ্ধি করা হলে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে তারা মনে করেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা সালাম মুন্সি বলেন, “হাজী ডাঙ্গী কবরস্থানটি আমাদের এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র স্থান। কিন্তু পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় সন্ধ্যার পর এখানে মানুষের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সোলার প্যানেল, ব্যাটারি ও তার চুরি হয়ে যাওয়ায় পুরো কবরস্থান অন্ধকারে ডুবে আছে। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত এখানে নতুন করে আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করুক, যাতে মানুষ নিরাপদে কবর জিয়ারত করতে পারে এবং কোনো অপরাধী এই স্থানকে অসামাজিক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহার করতে না পারে।”
এলাকাবাসী আরও জানান, কবরস্থানের পবিত্রতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তারা চুরির ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি কবরস্থানে পুনরায় আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে হাজী ডাঙ্গী কবরস্থানের নিরাপদ ও শান্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রোধ করা যাবে।
মন্তব্য করুন