
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে যুগলদের অশালীন আচরণ ও অনাকাঙ্ক্ষিত মেলামেশার অভিযোগ উঠেছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অস্বস্তি ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ ও নিয়মিত নজরদারির দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকপাড়, কফি হাউস, মন্দিরসংলগ্ন এলাকা, কেন্দ্রীয় মাঠের বসার বেঞ্চসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে প্রায়ই যুগলদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে রাত গভীর হলে এসব এলাকায় এমন ঘটনা বেশি ঘটে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, রাতে এসব এলাকায় মানুষের চলাচল ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকায় কিছু মানুষ অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের সুযোগ নেয়। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নয়, স্থানীয় বিভিন্ন বয়সী তরুণ-তরুণী এবং ক্যাম্পাসের বাইরের ব্যক্তিদেরও এসব স্থানে আসতে দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন আরিফ জানান, “ইউনিভার্সিটি জীবনে প্রেম-ভালোবাসা আমাদের অনুভূতির একটি স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু সেই সম্পর্ক থেকে যখন অনৈতিক কার্যকলাপ বা অন্য কোনো অসামাজিক কর্মকাণ্ডের দিকে পরিস্থিতি গড়ায়, তখন তা দৃষ্টিকটু লাগে। আমি নিজেও কিছুদিন আগে ক্যাম্পাসে একটি সমলিঙ্গের যুগলকে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সময় প্রত্যক্ষ করেছি। এ ক্ষেত্রে ক্যাম্পাস প্রশাসনের আরও কার্যকর নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে বলে আমি মনে করি। আমার অনুরোধ, প্রশাসন যেন এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেয় এবং ক্যাম্পাসের পরিবেশ সুন্দর ও সুশৃঙ্খল রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।”
অর্থনীতি বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মারজাহান আক্তার শিমু বলেন, “যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে আগমন দেখতে পাচ্ছি এবং তাদের কেউ কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করছে। তাই এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়মিত নিরাপত্তা টহলের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।”
এ বিষয়ে প্রক্টর ড. আহসান সৌরভ বলেন, “আনসারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, ক্যাম্পাসে কোনো শিক্ষার্থী কিংবা বহিরাগতকে অসংগতিপূর্ণ অবস্থায় বা কোনো যুগলকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখলে বিষয়টি প্রক্টরিয়াল বডিকে জানানোর জন্য। প্রতিদিন রাত ৯টার দিকে ক্যাম্পাসে টহল দেওয়া হয়। এর আগেও যেসব যুগলকে অপ্রীতিকর অবস্থায় পাওয়া গেছে, তাদের বিষয়ে বিভাগীয় চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে এবং সতর্ক করা হয়েছে। একই ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি হলে অভিভাবকদের ডাকা হবে।”
মন্তব্য করুন