
কুড়িগ্রামের সব সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি, নির্ধারিত স্ট্যান্ড স্থাপন এবং চালক ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছেন সিএনজি চালকেরা।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে শহরের শাপলা চত্বরে প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থান নিয়ে এ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা।
অবরোধের কারণে কুড়িগ্রাম-রংপুর, কুড়িগ্রাম-ভূরুঙ্গামারী ও কুড়িগ্রাম-উলিপুর সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে এসব সড়কে চলাচলকারী যাত্রী ও সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
অবরোধ চলাকালে কুড়িগ্রাম জেলা সিএনজি মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাসুম মিয়া, সাধারণ সম্পাদক রুস্তম আলী, লালমনিরহাট সিএনজি মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোজাম্মেল হক, তিস্তা সিএনজি মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মিলন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক তোজাম্মেল হক, ফুলবাড়ী উপজেলা কমিটির সভাপতি আলমগীর হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহীন আহমেদসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, কুড়িগ্রাম জেলা মোটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কফিল মিয়ার লোকজন বিভিন্ন সড়কে সিএনজি থেকে যাত্রী নামিয়ে নিয়ে তাঁদের নির্দিষ্ট যানবাহনে তুলে দেন। এতে সিএনজি চালকেরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাঁদের আরও অভিযোগ, বিভিন্ন সময় সিএনজি চালকদের কাছ থেকে টাকা কেড়ে নেওয়া এবং প্রতিবাদ করলে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে।
চালকেরা বলেন, তাঁরা নিয়ম মেনে সিএনজি চালাতে চান। কিন্তু বিভিন্ন সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে বাধা ও হয়রানির শিকার হওয়ায় তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাই জেলার সব সড়কে সিএনজি চলাচলের সুযোগ, নির্ধারিত স্ট্যান্ড স্থাপন এবং চালক ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।
সভাপতির বক্তব্যে কুড়িগ্রাম জেলা সিএনজি মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাসুম মিয়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ২৪ ঘণ্টা সিএনজি চলাচলের ক্ষেত্রে প্রশাসনকে কার্যকর নিশ্চয়তা দিতে হবে। দাবি মেনে না নিলে তাঁরা আরও কঠোর আন্দোলনে বা কঠিন অ্যাকশনে যেতে বাধ্য হবেন। ভবিষ্যতে কোনো সিএনজি চালকের কাছ থেকে টাকা নেওয়া, যাত্রী নামিয়ে দেওয়া, মারধর বা অন্য কোনোভাবে হয়রানি করা হলে তাঁরা এমন পরিস্থিতি তৈরি করবেন যাতে জেলার সড়কে কোনো যানবাহনের চাকা ঘুরতে না পারে।
পরে কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে সিএনজি চালকদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের অভিযোগ ও দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখার পাশাপাশি ভবিষ্যতে কেউ হয়রানি করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। তাঁর আশ্বাসের পর চালকেরা অবরোধ তুলে নিলে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
কুড়িগ্রাম সদর থানার ওসি কামাল হোসেন বলেন, “বিষয়টি আগে আমি জানতাম না, আজই প্রথম জানতে পেরেছি। একজন অফিসার ইনচার্জ হিসেবে এখানে কথা দিয়ে যাচ্ছি, সিএনজি চালকদের আর কেউ কোনো ধরনের হয়রানি করতে পারবে না। কেউ হয়রানি করলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য যেকোনো ধরনের সহযোগিতা আমার পক্ষ থেকে থাকবে।”
মন্তব্য করুন