
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখার সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মুবাশ্বির আমিনের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গবেষণাগারে দৈনিক মজুরিতে নিয়মিত কাজ না করেই বেতন উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। এরআগে গত ২৬ এপ্রিল এ নেতার মাদক সদৃশ দ্রব্য সেবনের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল ক্যাম্পাসে তীব্র সমালোচনা সৃষ্টি হয়।
জানা যায়, গতবছর ল্যাবের টেকনিক্যাল কমিটির সুপারিশে ‘অন-ক্যাম্পাস জব’ এর আওতায় বর্তমান শিক্ষার্থীদেরকে অস্থায়ী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এদের দৈনিক মজুরি ঠিক করা হয় ৪০০ টাকা। পরে একই বছরের আগস্টে মুবাশ্বিরসহ ছয়জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে যে, যোগদানের পর থেকেই নিয়মিত কাজ না করেই বেতন নেন মুবাশ্বির। ল্যাবে অনুপস্থিত থেকেও গত আট মাসে তিনি মোট ৫২,০০০ টাকা বেতন উত্তোলন করেছেন। তাছাড়া ল্যাবের পেশাদার দায়িত্ব পালনের চেয়ে দলীয় মিছিল, মিটিং ও ব্যক্তিগত রাজনৈতিক কর্মসূচিতেই বেশিরভাগ সময় ব্যয় করেন তিনি।
হিসাব অনুযায়ী, বেতন বাবদ গত বছরের আগস্টে ৩,২০০ টাকা, সেপ্টেম্বরে ৮,৪০০ টাকা, অক্টোবরে ৭,২০০ টাকা, নভেম্বরে ৮,৮০০ টাকা এবং ডিসেম্বরে ৬,৪০০ টাকা নেন। এছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৭,২০০ টাকা, ফেব্রুয়ারিতে ৬,৪০০ টাকা এবং সর্বশেষ মার্চ মাসে ৪,৪০০ টাকা উত্তোলন করেন তিনি। ল্যাবে নিয়মিত উপস্থিত না হয়েও এভাবে অর্থ উত্তোলন করায় ক্যাম্পাসে নানান প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এদিকে তার এক সহকর্মী অভিযোগ করে বলেন, মুবাশ্বির মাসে মাত্র ২-৩ দিন সার্ভিস দেন। দিনের অধিকাংশ সময় তাকে ল্যাবে পাওয়া যায় না। প্রতিদিন ল্যাবে এসে শুধু স্বাক্ষর করেই চলে যান। এ বিষয়ে ল্যাব পরিচালকের কাছে মৌখিক অভিযোগ জানিয়েছি।
এর আগে, গত ২৬ এপ্রিল দুপুরে ইবির এই বৈষম্যবিরোধী নেতার মাদক সেবনের একটি ছবি ফেসবুকে শেয়ার করেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতা। পরে ঘটনাটি শিক্ষার্থীদের মাঝে তুমুল সমালোচনার জন্ম দিলে এটিকে অভিনয়ের একটি দৃশ্য বলে দাবি করেন মুবাশ্বির। পরে বিষয়টি নিয়ে ইবি থানায় জিডি করেন তিনি।
অভিযুক্ত মুবাশ্বির আমিন বলেন, আমার ল্যাবটিতে সপ্তাহে একদিন বা দুইদিন শিক্ষার্থীদের পারপাসে কাজ করা হয়। অন্য সময়ে আমার পার্সোনাল কাজে ল্যাবে আসা হয়। তাই দুই একদিন এসে পুরো মাসের বেতন নেওয়ার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং মানহানিকর তথ্য।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পদে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করার ব্যাপারে তিনি বলেন, আমি ক্ষমতার কোনো অপব্যবহার করিনি। আমি নিজ যোগ্যতাই নিয়োগ পেয়েছি। আর মাদকের ব্যাপারটা মূলত নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ছড়ানো। এটি নিয়ে আমি মামলাও করেছি। আর এমনিতেও নিষিদ্ধঘোষিত একটি সংগঠনের প্রোপাগান্ডার কোনো বৈধতা থাকতে পারে না।
মন্তব্য করুন