
বগুড়ার শেরপুর পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে এখন থেকেই সরগরম রাজনৈতিক অঙ্গন। সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে চলছে নানা আলোচনা, হিসাব-নিকাশ ও জনমত যাচাই। এরই মধ্যে মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সাধারণ ভোটারদের আগ্রহের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন স্থানীয় রাজনীতির পরিচিত মুখ মো. রফিকুল ইসলাম মিন্টু, যিনি এলাকায় “ভিপি মিন্টু” নামেই অধিক পরিচিত।
বর্তমানে তিনি শেরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বগুড়া জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তার রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তি গড়ে ওঠে ছাত্ররাজনীতি থেকে। শেরপুর কলেজ ছাত্র সংসদের সর্বপ্রথম নির্বাচিত ভিপি মিন্টু উত্তরবঙ্গের ছাত্ররাজনীতির গৌরবময় ইতিহাস। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় আন্দোলন, ত্যাগ-সংগ্রাম, সাংগঠনিক দক্ষতা ও তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় সম্পৃক্ততার কারণে স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তার সম্ভাব্য প্রার্থিতার আলোচনা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যেই “প্রিয় নেতাকে মেয়র হিসেবে দেখতে চাই” – এমন স্লোগান সম্বলিত ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে নগরের দেওয়াল। অনেক স্থানে “জনগণের নেতা”, “জনবান্ধব মেয়র” কিংবা “পরিবর্তনের প্রতীক” – এমন নানা স্লোগানও চোখে পড়ছে। রাজনৈতিক সচেতন মহল বলছে, এসব প্রচারণাও ইঙ্গিত দিচ্ছে আসন্ন নির্বাচনে বড় ধরনের চমক দেখা যেতে পারে।
স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকার কারণে দলীয় তৃণমূলে মিন্টুর প্রতি আস্থার জায়গা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি তরুণ ভোটারদের মধ্যেও তার একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সামাজিক ও মানবিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেও তাকে নিয়মিত অংশ নিতে দেখা যায়।
একজন স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী বলেন, “মিন্টু ভাই সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেন। রাজনৈতিক কর্মসূচির বাইরেও মানুষের প্রয়োজনে তাকে সবসময় পাওয়া যায়।”
পৌর এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে— নাগরিক সেবা, সড়ক ও ড্রেনেজ উন্নয়ন, যানজট নিরসন, পরিচ্ছন্ন নগর গঠন এবং যুবকদের কর্মসংস্থান – এসব বিষয়ই এখন ভোটারদের প্রধান প্রত্যাশা। অনেকেই মনে করছেন, স্থানীয় বাস্তবতা সম্পর্কে ধারণা ও জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ একজন প্রার্থীকে নির্বাচনে বাড়তি সুবিধা এনে দিতে পারে। উল্লেখ্য, ভিপি রফিকুল ইসলাম মিন্টু একজন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভিপি মিন্টু শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে নামলে শেরপুর পৌরসভা নির্বাচন আরও জমজমাট হয়ে উঠবে। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে পরিচিতি নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, “বর্তমান রাজনীতিতে শুধু দলীয় পরিচয় নয়, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতাও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেই জায়গায় মিন্টু নিজেকে আলোচনায় রাখতে সক্ষম হয়েছেন।”
সমর্থকদের ভাষ্য, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রেখে কাজ করে আসছেন। সেই কারণেই অনেকের কাছে তিনি আসন্ন পৌর নির্বাচনের “চমক” হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের সময়সীমা ও দলীয় প্রার্থী ঘোষণা হয়নি, তবুও সম্ভাব্য প্রার্থীদের ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা থেমে নেই। বিভিন্ন মহলের ধারণা, শেষ পর্যন্ত কারা নির্বাচনী মাঠে থাকছেন এবং কী ধরনের কৌশল নেওয়া হচ্ছে, তার ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করবে শেরপুর পৌরসভার নির্বাচনী সমীকরণ।
সব মিলিয়ে বগুড়ার শেরপুরে নির্বাচনী আবহ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। আর সেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ঘুরেফিরে আসছে – ভিপি রফিকুল ইসলাম মিন্টু।
মন্তব্য করুন