
নরসিংদীর মনোহরদীতে রাস্তার নির্মাণকাজে অনিয়মের সংবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশকে কেন্দ্র করে সিএনএন বাংলা টিভির বিশেষ প্রতিনিধি সাখাওয়াত হোসেন সৌরভের ওপর হামলার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার কয়েকদিন পর হামলার দায় স্বীকার করে বক্তব্য দেওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) মনোহরদী উপজেলার একটি রাস্তার নির্মাণকাজে অনিয়ম সংক্রান্ত সংবাদ ফেসবুকে প্রকাশ করেন স্থানীয় সাংবাদিক সাখাওয়াত হোসেন সৌরভ। সংবাদ প্রকাশের পরপরই এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তিনি হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মনোহরদী যুবদলের সদস্য সচিব মাসুদুর রহমান সোহাগ পরে হামলার দায় স্বীকার করে বলেন, “মিসটেকের কারণে” এ ঘটনা ঘটেছে। তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় জনসাধারণ, সচেতন মহল ও সাংবাদিক সমাজে নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। এমনকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে একজন পেশাদার সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা কীভাবে ঘটলো—তা নিয়েও এলাকায় ব্যাপক আলোচনা, ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এদিকে হামলার পর সাংবাদিক সাখাওয়াত হোসেন সৌরভকে থানায় নিয়ে লিখিত জবানবন্দী নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, তাকে “চাঁদাবাজ”, “দোষী” এবং “ইয়াবা ব্যবসায়ী”সহ বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সাংবাদিক মহলের দাবি, একজন গণমাধ্যমকর্মী যদি সত্য ও জনস্বার্থে সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে হামলা, হয়রানি ও অপপ্রচারের শিকার হন, তাহলে তা শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর আঘাত নয়; বরং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের ওপরও সরাসরি আঘাত।
স্থানীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন