
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর মুক্তাঙ্গণে জনদুর্ভোগ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং জ্বালানি সংকটের প্রতিবাদে ১১ দলীয় ঐক্য অবস্থান কর্মসূচি ও গণসমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করেন এবং একাধিক দাবি তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের আন্দোলন চলবে এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। তিনি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, তেল-গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য কমানো, জনভোগান্তি নিরসন, বৈষম্য দূরীকরণ এবং বিভিন্ন অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সমাবেশে তিনি আগামী কয়েক মাসের কর্মসূচিও ঘোষণা করেন। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম, ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর, ১০ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা এবং ২৪ অক্টোবর ঢাকা-সিলেট (রেলপথে) লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি সরকারের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হলে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
সমাবেশে বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, এবি পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।
সমাবেশে অংশগ্রহণকারী নেতারা জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর্মসংস্থান এবং জনজীবনের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বক্তব্য দেন এবং এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি ও ডা. ফখরুদ্দিন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সংগঠন এবং ভুক্তভোগী পরিবারের প্রতিনিধিরাও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন