
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে ৪৯ প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
এতে বিএনপির ৩৬ জন, জামায়াত জোটের ১২ ও স্বতন্ত্র জোটের ১জন সহ মোট ৪৯ জনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে ইসির সচিব (রুটিন দায়িত্ব) কে এম আলী নেওয়াজের সই করা এই গেজেট প্রকাশ করা হয়।
৫০টি আসনে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য গত ২১ এপ্রিল ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। এই সময়ের মধ্যে ৫৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। বাছাইয়ে বাদ পড়েন ৪ জন। এর মধ্যে জামায়াত জোটের প্রার্থী এনসিপির মনিরা শারমিন ও রাজনৈতিক দল ও জোটের বাইরে ছিল তিন জন।
১২ মে সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট থাকলেও প্রতি আসনের বিপরীতে একক প্রার্থী থাকায় নির্বাচনের প্রয়োজন হয়নি। বরাবরের মত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় পার হওয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলেন তারা।
বিএনপি জোটের নির্বাচিত যারা:
বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য হয়েছেন—সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আরলী, মোছাম্মৎ ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, সাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলোফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জীবা আমিনা খান, মাহমুদা হাবিবা, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন।
আরও আছেন—সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিনজ, সুবর্ণা সিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বীথিকা বিনতে হোসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানসুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলো, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আর আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা ও রেজেকা সুলতানা।
জামায়াত জোট থেকে নির্বাচিত যারা:
জামায়াতে ইসলামী জোটে নির্বাচিত জামায়াতের নয় সংসদ সদস্য হলেন—নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, মারজিয়া বেগম, সাবিকুন্নাহার মুন্নী, নাজমুন নাহার নীলু, মাহফুজা হান্নান, সাজেদা সামাদ, শামছুন্নাহার বেগম, মারদিয়া মমতাজ, জুলাই শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম।
একই জোটের জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে সংসদ সদস্য হয়েছেন মাহমুদা আলম মিতু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) তাসমিয়া প্রধান ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাহবুবা হাকিম।
এছাড়া স্বতন্ত্র জোটের প্রার্থী হিসেবে সাবেক ছাত্রদল নেত্রী সুলতানা জেসমিন জুঁই সংরক্ষিত আসনের এমপি নির্বাচিত হয়েছেন।
সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ইসির যুগ্ম সচিব মঈন উদ্দীন খান বলেন, বিএনপি জোটের ৩৬ জন, জামায়াত জোটের ১২ জন ও স্বতন্ত্র একজনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয় বুধবার।
“তাদের নাম প্রকাশের পর এখন সংরক্ষিত আসনের এসব সদস্যের শপথ আয়োজনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গেজেটের কপি সংসদ সচিবালয়ে পাঠানো হবে।”
এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় একটি আসন:
৮ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় ছিল ২১ এপ্রিল। ২২ ও ২৩ এপ্রিল মনোয়নপত্র বাছাই হয়। ২৭ এপ্রিল ও ২৮ এপ্রিল আপিল নিষ্পত্তি এবং ২৯ এপ্রিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের দিন নির্ধারিত ছিল। ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ আর ভোট দিন ১২ মে।
এর মধ্যে ৪৯ জন বিনাভোটে নির্বাচিত হওয়ায় প্রতীক বরাদ্দ ও ১২ মে ভোটের প্রয়োজন পড়ছে না। তবে একটি আসন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়ে গেছে।
২২ এপ্রিল জামায়াত জোটের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই হয়, যেখানে বাদ পড়েন এনসিপির মনিরা শারমিন। সরকারি চাকরি ছাড়ার তিন বছর পার না হওয়ায় বাছাইয়ে বাদ পড়ে তিনি। নির্বাচন কমিশনে আপিল করলেও তা নামঞ্জুর হয়।
মনিরা শারমিন যে বাদ পড়ছেন, তা বুঝতে পেরে নুসরাত তাবাসসুমকে মনোনয়ন দেয় এনসিপি। তিনি নির্ধারিত সময়ে পরে মনোনয়নপত্র জমা দিতে গেলে তা আর গৃহীত হয়নি। পরে তিনি হাই কোর্টে গেলে মনোনয়নপত্র নেওয়ার জন্য ইসিকে নির্দেশনা দেয় আদালত।
এমন পরিস্থিতিতে একটি নারী আসন শূন্য রয়ে গেছে। এখন আদালতের আদেশ হাতে পাওয়ার পর করণীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে ইসি।
মন্তব্য করুন