
বরগুনার আমতলী উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের তারিকাটা মৌজায় ডিজিটাল ভূমি জরিপ কার্যক্রমে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ দাবির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল ১১টায় আড়পাঙ্গাশিয়া বাজারে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচিতে শতাধিক কৃষক অংশ নেন।
আমতলী উপজেলা সেটেলমেন্ট কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ৩৩ নম্বর তারিকাটা মৌজায় ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর থেকে ডিজিটাল ভূমি জরিপ কার্যক্রম শুরু হয়। শুরু থেকেই জরিপ কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করে আসছেন ভূমি মালিকরা। তাদের দাবি, ঘুষের বিনিময়ে এক ব্যক্তির জমি অন্যের নামে রেকর্ড করা হচ্ছে এবং খতিয়ান বিভাজনের মাধ্যমে হয়রানি করা হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষক মো. জাকির হোসেন হাওলাদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন সমাজসেবক মো. সরোয়ার হোসেন হাওলাদার, মো. জাফর হোসেন বিশ্বাস, মো. কামাল মৃধা, মো. হযরত আলী ও মো. রব শরীফ।
বক্তারা অভিযোগ করেন, ডিজিটাল ভূমি জরিপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ করেন না। একটি খতিয়ানকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে একাধিক খতিয়ানে বিভক্ত করা হচ্ছে এবং পরে তা সংশোধনের নামে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী কৃষক মো. জাফর বিশ্বাস বলেন, ‘আমার আটটি খতিয়ান ভেঙে ৪২০টি খতিয়ান করা হয়েছে। সংশোধনের জন্য অফিসে গেলে আমার কাছে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়।’
আরেক কৃষক মো. জাকির হোসেন হাওলাদার বলেন, ‘আমার পাঁচটি দাগের জমি অন্য ব্যক্তির নামে রেকর্ড করা হয়েছিল। পরে অফিসের এক কর্মচারীকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা দেওয়ার পর সেটি সংশোধন করা হয়।’
কৃষক মো. কামাল মৃধা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার পৈতৃক সম্পত্তি প্রতিবেশী এক নারীর নামে রেকর্ড করা হয়েছিল। পরে অর্থ ব্যয় করে তা সংশোধন করতে হয়েছে।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আমতলী উপজেলা সেটেলমেন্ট কার্যালয়ের সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ঘুষ, অনিয়ম ও দুর্নীতির যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমাদের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন।’
আমতলী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের বিষয়ে সেটেলমেন্ট অফিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলা হবে।’
মন্তব্য করুন