
কবি জসীম উদ্দীনের ‘আসমানি’ যেন আজও হারিয়ে যায়নি। সময় বদলেছে, বদলেছে সমাজের চিত্র; কিন্তু দারিদ্র্য আর অসহায়ত্বের নির্মম বাস্তবতা এখনও বেঁচে আছে নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার নাহারখিল গ্রামের পারভীন আক্তারের জীবনে।
নিজস্ব কোনো বসতভিটা নেই পারভীনের। অন্যের জায়গায় রাস্তার ধারে প্লাস্টিকের ছোট্ট একটি ছাউনিই তার পরিবারের একমাত্র আশ্রয়স্থল। সেই ছাউনিতেই স্বামী সাইফুল ইসলাম ও চার সন্তানকে নিয়ে দিন কাটছে তার। একই জায়গায় রাখা হয় হাঁস, মুরগি, গরু ও ছাগল। মানুষের বসবাসের অনুপযোগী পরিবেশেই চলছে তাদের জীবনসংগ্রাম।
স্থানীয়রা জানান, পারভীন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। এর মধ্যে তার একটি কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসা কিংবা নিয়মিত ডাক্তার দেখানোর সামর্থ্য নেই পরিবারের। ফলে দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে তার শারীরিক অবস্থা।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সাইফুল ইসলাম পেশায় একজন রিকশাচালক। প্রতিদিন রিকশা চালিয়ে যে সামান্য আয় করেন, তার বড় একটি অংশ ব্যয় হয়ে যায় স্ত্রীর ওষুধ ও চিকিৎসার পেছনে। অবশিষ্ট অর্থ দিয়ে ছয় সদস্যের পরিবারের খাবার জোগানোও হয়ে ওঠে কঠিন।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, অনেক সময় পরিবারের সদস্যদের না খেয়েই দিন কাটাতে হয়। বিশেষ করে চার সন্তানের কষ্ট দেখে ব্যথিত হন প্রতিবেশীরা। অভাব-অনটনের কারণে শিশুদের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
প্রতিবেশীরা আরও জানান, ঝড় কিংবা ভারী বৃষ্টি শুরু হলে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে থাকে পরিবারটি। কারণ প্লাস্টিকের তৈরি ছাউনিটি তখন আর নিরাপদ থাকে না। কোনো উপায় না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খাটের নিচে আশ্রয় নিয়ে নিজেদের রক্ষা করার চেষ্টা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, সামান্য সহায়তা পেলেই বদলে যেতে পারে এই পরিবারের জীবন। একটি নিরাপদ ঘর, পর্যাপ্ত চিকিৎসা এবং শিশুদের জন্য খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে পারভীন ও তার পরিবার নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারবে।
এলাকাবাসী সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, মানবিক সংগঠন, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জরুরি ভিত্তিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
একজন প্রতিবেশী বলেন, “আমরা প্রতিদিন তাদের কষ্ট দেখি। ঝড়-বৃষ্টিতে ওদের অবস্থা আরও করুণ হয়ে যায়। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ যদি একটু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে হয়তো পরিবারটি বেঁচে থাকার নতুন আশা খুঁজে পাবে।”
দারিদ্র্য, রোগব্যাধি আর অনিশ্চয়তার সঙ্গে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে চলা পারভীন আক্তারের পরিবার এখন মানবিক সহায়তার অপেক্ষায়। সমাজের সামান্য সহযোগিতাই হতে পারে তাদের জন্য নতুন জীবনের আলো।
মন্তব্য করুন