
অন্য শিশুদের মতো বই-খাতা হাতে স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল তার। বন্ধুদের সঙ্গে হাসি-আনন্দে কাটার কথা ছিল শৈশব। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে মাত্র ১০ বছর বয়সেই ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধির সঙ্গে লড়াই করছে সামিয়া সুলতানা। যে বয়সে তার হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, সে বয়সে এখন তার হাতে স্যালাইনের সূঁচ আর ওষুধের তালিকা।
বগুড়া জেলার শাজাহানপুর উপজেলার সি ব্লক এলাকার বাসিন্দা সামিয়া। তার পিতা মো. শামসুল হক একজন বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও মাতা মোছা. আসমা খাতুন একজন গৃহিণী। প্রায় দুই মাস আগে চিকিৎসকদের পরীক্ষায় ধরা পড়ে, সামিয়া ক্যান্সারে আক্রান্ত।
মুহূর্তেই যেন ভেঙে পড়ে পুরো পরিবারের স্বপ্ন। মেয়েকে বাঁচানোর শেষ আশায় পরিবারের সবটুকু সামর্থ্য নিয়ে তাকে নেওয়া হয় ভারতে। বর্তমানে সেখানেই চলছে তার চিকিৎসা।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, সামিয়ার সুস্থতার জন্য প্রয়োজন প্রায় ২০ লাখ টাকা। কিন্তু এই বিপুল অর্থ জোগাড় করা পরিবারের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। প্রতিদিন যেমন চিকিৎসার খরচ বাড়ছে, তেমনি প্রতিদিনই নিঃস্ব হয়ে পড়ছে পরিবারটি। সন্তানের জীবন বাঁচাতে এক অসহায় বাবা-মা যেন আজ দিশেহারা।
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে ছোট্ট সামিয়া হয়তো এখনও বুঝতে পারে না, তার চিকিৎসার জন্য কত বড় যুদ্ধ লড়ছেন তার বাবা-মা। কিন্তু প্রতিটি মুহূর্তে মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বুকভাঙা কান্না লুকিয়ে রাখছেন তারা। চোখে শুধু একটাই স্বপ্ন – তাদের আদরের সন্তানটি আবার সুস্থ হয়ে ফিরে আসবে সবার মাঝে।
আজ সামিয়ার জন্য প্রয়োজন শুধু অর্থ নয়, প্রয়োজন মানুষের ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও মানবিকতার হাত। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী বাংলাদেশি, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ সকল হৃদয়বান মানুষের প্রতি পরিবারের আকুল আবেদন – দয়া করে সামিয়ার পাশে দাঁড়ান।
হয়তো আপনার সামান্য সহযোগিতাই ফিরিয়ে দিতে পারে একটি শিশুর হাসি, একটি মায়ের বুকভরা স্বস্তি, একটি বাবার বেঁচে থাকার শক্তি। একটি ছোট্ট সহায়তা হতে পারে একটি নিষ্পাপ প্রাণের নতুন জীবনের সূচনা।
মানুষ মানুষের জন্য। আসুন, আমরা সবাই মিলে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করা ছোট্ট সামিয়া সুলতানার পাশে দাঁড়াই। কারণ একটি শিশুর জীবন পৃথিবীর যেকোনো সম্পদের চেয়েও মূল্যবান।
সামিয়ার চিকিৎসায় সহযোগিতা করতে বা বিস্তারিত জানতে তার পিতা মো. শামসুল হকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা যাবে এই নম্বরে: ০১৮১৩-১৭৩১২০।
মন্তব্য করুন