
চলচ্চিত্রে জনপ্রিয়তার দীর্ঘ অধ্যায়কে পুঁজি করে তিনি ধাপে ধাপে গড়ে তুলেছেন এক রাজনৈতিক কাঠামো। এখন সেই কাঠামোই তাঁকে নিয়ে যাচ্ছে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে। তিনি হলেন, সকলের প্রিয় দক্ষিণী সিনেমার সুপারস্টার থালাপতি বিজয়। এই যাত্রা শুধু তার ব্যক্তিগত রূপান্তর নয় বরং তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা।
বছর দুয়েক আগে, অর্থাৎ ক্যারিয়ারের পিক টাইমে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নাম লেখান থালাপতি বিজয়। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে হঠাৎ করে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করে ভক্তদের চমকে দেন বিজয়। যদিও লোকসভা নির্বাচনে অংশ নেয়নি তাঁর দল, শুরু থেকেই লক্ষ্য ছিল ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন।
এই বিধানসভা নির্বাচনেই প্রথমবার অংশ নিয়ে বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) চমক দেখিয়েছে। যেখানে এবারের নির্বাচনে দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝগম (ডিএমকে) কংগ্রেস ও বাম দলগুলোর সঙ্গে জোট বেঁধে লড়ছে, আর অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝগম (এআইএডিএমকে) বিজেপির সঙ্গে জোটে রয়েছে। আর সেখানে একাই লড়েছে বিজয়ের টিভিকে।
সোমবার (৪ মে) বিকেল পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১০৭টিরও বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে টিভিকে।
তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে বিজয়ের দল। সব কিছু ঠিক থাকলে, তিনিই হতে পারেন রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ ভোটারদের বড় একটি অংশই বিজয়ের দিকে ঝুঁকেছে। এর প্রভাবই দেখা যাচ্ছে ভোটের ফলাফলে।
বিজয় নিজেই দুটি আসন তিরুচিরাপল্লি পূর্ব ও পেরাম্বুর থেকে লড়েছেন এবং দুটিতেই এগিয়ে আছেন। ইতিমধ্যেই চেন্নাইয়ে তাঁর বাড়িতে উৎসবের আমেজ দেখা গেছে।
‘মাস্টার’, ‘লিও’সহ একাধিক সুপারহিট সিনেমার এই তারকা এবার সবকিছু ঠিক থাকলে খুব শিগগিরই তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন—এমনটাই জোরালো ইঙ্গিত মিলছে।
মন্তব্য করুন