
আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে নওগাঁর ১১টি উপজেলায় গবাদি পশু হৃষ্টপুষ্টকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৩৯ হাজার খামারে ৮ লাখ ২ হাজার পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ৮৭ হাজার পশু স্থানীয় চাহিদা পূরণ করবে এবং অবশিষ্ট প্রায় ৪ লাখ পশু ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হবে।
সরেজমিনে নওগাঁর বিভিন্ন খামার ঘুরে দেখা গেছে, দেশীয় পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবারে পশুগুলো প্রস্তুত করা হচ্ছে। তবে খামারিদের চোখে-মুখে আশঙ্কার ছাপ। তাদের প্রধান দুশ্চিন্তার কারণ পশুখাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। খামারিরা জানিয়েছেন, গত কয়েক মাসে খৈল, ভুষি ও খড়ের দাম বস্তাপ্রতি ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে পশু লালন-পালনের খরচ অনেক বেড়ে গেছে, যা কোরবানির পশুর দামের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

নওগাঁ সদরের এক খামারি বলেন, “আমরা সারা বছর কষ্ট করে গরু পালি কোরবানির ঈদে একটু লাভের আশায়। কিন্তু খাবারের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে পশুর ভালো দাম না পেলে আমাদের লোকসান গুনতে হবে।”
এদিকে, পশুর হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিন স্থাপনের পাশাপাশি প্রতিটি হাটে সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। এছাড়া পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম প্রতিটি বড় হাটে কাজ করবে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নওগাঁর পশুগুলো সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে বড় করা হয়েছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও পশু বিক্রির সুযোগ রাখা হয়েছে যাতে ক্রেতারা ঘরে বসে পছন্দের পশু কিনতে পারেন।
মন্তব্য করুন