
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার সোমপাড়া ইউনিয়নে ফাহিমা আক্তার রিফা (১৮) নামে এক নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে স্বামীর বাড়ি থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন থাকায় ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছে তাঁর পরিবার। তবে স্বামীর পরিবারের দাবি, ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল এবং দরজা ভেঙে ঝুলন্ত অবস্থায় রিফার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৯ মার্চ সোমপাড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের তফদার বাড়ির মো. সালাউদ্দীনের মেয়ে ফাহিমা আক্তার রিফার সঙ্গে প্রসাদপুর গ্রামের আমজাদ ব্যাপারীর বাড়ির মৃত কবির হোসেনের ছেলে সৌদি প্রবাসী ফয়সাল আহমেদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাঁদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল বলে জানিয়েছে উভয় পরিবারের সদস্যরা।
মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় বিচার দাবি করে নিহতের বাবা মো. সালাউদ্দীন বলেন, “আমার মেয়েকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাত। ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে ফয়সাল আমাকে ফোন করে রিফাকে দ্রুত নিয়ে যাওয়ার কথা বলে। পরে মেয়ের সঙ্গে কথা বলার সময় তাকে খুব উদ্বিগ্ন মনে হয়েছে। কিছুক্ষণ পর সেখানে গিয়ে দেখি আমার মেয়ে আর বেঁচে নেই।”
নিহতের ফুফু পপি আক্তারও হত্যার অভিযোগ তুলে বলেন, “বিয়ের পর থেকেই ফয়সাল ও রিফার মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ চলছিল। ফয়সাল প্রায়ই রিফাকে গালাগালি করত। প্রবাসে যাওয়ার পর রিফার দেবর বিরন তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করত এবং অসামাজিক প্রস্তাব দিত।”
তিনি আরও জানান, স্বামী সৌদি আরবে চলে যাওয়ার পর রিফা বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। শুক্রবার ছোট বোনের চিকিৎসার জন্য পরিবারের সদস্যরা বাইরে গেলে শাশুড়ি তাকে স্বামীর বাড়িতে নিয়ে যান। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর মৃত্যুর খবর আসে।
নিহতের পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়। রিফার গলায় নখের আঁচড়ের দাগসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাঁকে শ্বাসরোধ কিংবা নির্যাতন করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে তাদের অভিযোগ।
অন্যদিকে, নিহতের দেবর আকাশ জানান, “ঘটনার সময় প্রবাসে থাকা ভাই ফয়সালের ফোন পেয়ে আমি ভাবীর ঘরের দিকে যাই। গিয়ে দেখি ঘরের দুটি দরজাই ভেতর থেকে বন্ধ। কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ঝুলন্ত অবস্থায় ভাবীকে দেখতে পাই। পরে পরিবারের অন্য সদস্যদের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়।”
চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মন্তব্য করুন