
বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধান কে হচ্ছেন এ নিয়ে বিগত কয়েক দিন ধরেই রাজনৈতিক অঙ্গন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা গুঞ্জন ও সমীকরণ। সম্প্রতি নেটদুনিয়ায় “বাংলাদেশ প্রথমবার একজন নতুন নারী রাষ্ট্রপতি পেতে যাচ্ছে” এমন খবর ছড়িয়ে পড়ায় নতুন চমকের তৈরি হয়েছে। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর নীতিনির্ধারণী পর্যায় ও নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এটি নিছকই একটি সামাজিক মাধ্যমের চর্চা; বাস্তব চিত্রে কোনো নারী প্রার্থীর নাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তালিকার শীর্ষে নেই।
রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, আগামী দিনের শাসনতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রবীণ, অভিজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গ্রহণযোগ্য নেতাদের নামই বর্তমানে প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক জোট বা দলগুলোর আলোচনায় প্রাধান্য পাচ্ছে।
আলোচনায় যাঁদের নাম
সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক সূত্রের তথ্যানুযায়ী, রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য সংক্ষিপ্ত তালিকায় বর্তমানে মূলত প্রবীণ রাজনীতিকদের নামই শীর্ষে রয়েছে:
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: দলের মূল কাণ্ডারি ও প্রবীণ এই নেতাকে পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন রয়েছে।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন: বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই জ্যেষ্ঠ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রীও রয়েছেন আলোচনা ও রাষ্ট্রপতির দৌড়ে।
ড. আবদুল মঈন খান: আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুপরিচিত ও কূটনৈতিক যোগাযোগের দিক থেকে এগিয়ে থাকা এই সাবেক মন্ত্রীও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন।
নজরুল ইসলাম খান: প্রবীণ রাজনীতিক ও সাবেক এই রাষ্ট্রদূতের নামও রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বিবেচনার ক্ষেত্রে বেশ জোর দিয়ে উঠে আসছে।
রাজনীতিকদের বাইরেও সাবেক প্রধান বিচারপতি বা জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক ব্যক্তিদের নাম অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় থাকলেও, কোনো নির্দিষ্ট নারী নেত্রী বা বিশিষ্ট কোনো নারী ব্যক্তিত্বের নাম রাষ্ট্রপতি পদের সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান পাওয়ার বিষয়ে কোনো জোরালো সংকেত পাওয়া যায়নি।
যেভাবে নির্বাচিত হবেন নতুন রাষ্ট্রপতি
বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের একটি সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, সরাসরি জনগণের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন না। জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্য বা এমপিদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে থাকেন। ফলে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল বা জোটের মনোনীত প্রার্থীই পরিশেষে বঙ্গভবনের চাবিকাঠি পান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবে যেকোনো স্পর্শকাতর বা গুরুত্বপূর্ণ পদে নিত্যনতুন নাম ভেসে ওঠা স্বাভাবিক। তবে দলগুলোর নিজস্ব নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত, সংসদীয় প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন কমিশনের অফিশিয়াল তফসিল জারি না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের চমকপ্রদ খবরগুলোকে কেবলই ‘সোশ্যাল মিডিয়া ট্রেন্ড’ বা রাজনৈতিক গুঞ্জন হিসেবেই দেখা উচিত।
মন্তব্য করুন