
কিছু মানুষ বয়সে তরুণ হলেও চিন্তা ও দায়িত্ববোধে অনেক পরিণত। মানুষের সঙ্গে তার আচরণে থাকে সৌজন্য। কথাবার্তায় থাকে বিনয়। আর প্রয়োজনের সময়ে পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে। জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত তরুণ বগুড়ার এসএম ফারহান লাবিবকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মূল্যায়নও অনেকটা এমনই।
শেরপুরের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তরুণদের মধ্যে ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান তৈরি করছেন ফারহান লাবিব। ছাত্র রাজনীতির পাশাপাশি সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকায় মানুষের নানা সমস্যা ও প্রত্যাশার সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। জানা গেছে, সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরার পাশাপাশি মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছেন তিনি।
এলাকার কয়েকজন বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি বলেন, বর্তমান সময়ে তরুণদের অনেকেই রাজনীতিতে আসেন পরিচিতি কিংবা পদ-পদবির প্রত্যাশা নিয়ে। তবে ফারহান লাবিবের মধ্যে মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ার সহজাত গুণটি তারা আলাদা করে দেখেছেন। ছোট-বড় সবার সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করা এবং মনোযোগ দিয়ে কথা শোনা তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য বলেও জানান তারা।
স্থানীয় এক প্রবীণ ব্যক্তি বলেন, “ফারহানের বয়স কম হলেও তার কথাবার্তায় পরিণত ভাব রয়েছে। সবচেয়ে ভালো লাগে তার ব্যবহার। মানুষের সঙ্গে ভালোভাবে কথা বলে এবং কাউকে ছোট করে কথা বলতে দেখিনি।”
রাজনৈতিক অঙ্গনেও ফারহানের সক্রিয়তা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। আ.লীগের দীর্ঘ দমন-পীড়ন ও প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও আন্দোলন-সংগ্রাম এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তিনি সক্রিয় ছিলেন বলে জানান তার সহকর্মীরা। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম পেরিয়ে জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময়ও তার অব্যাহত সক্রিয়তা প্রশংসিত সর্বমহলে।
জাতীয়তাবাদী রাজনীতির আদর্শ ও চেতনাকে ধারণ করে ফারহান লাবিব দলের সিনিয়র নেতাদের নির্দেশনা ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠে সক্রিয় থেকেছেন বলে দাবি নেতাকর্মীদের। বিশেষ করে বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান সরকার ও সাধারণ সম্পাদক এম আর হাসান পলাশের নেতৃত্বে সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার অংশগ্রহণ ও সক্রিয়তা নেতাকর্মীদের নজরে এসেছে। সাধারণ মানুষের আস্থা ও দলীয় নির্দেশনা বাস্তবায়নের যে সাংগঠনিক প্রচেষ্টা চলছে, সেখানে ফারহান লাবিবের মতো শিক্ষিত ও মার্জিত তরুণদের ভূমিকা ইতিবাচকভাবে দেখছেন অনেকে।
নেতাকর্মীদের ভাষ্য, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ নেতাকর্মীদের অনুপ্রেরণা জোগায়। একই ধারাবাহিকতায় বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি গণতান্ত্রিক ও জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা রয়েছে তাদের। সেই আদর্শ ও প্রত্যাশাকে সামনে রেখে তরুণদের রাজনীতিতে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তারা। তাদের মতে, রাজনীতিতে শুধু কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকাই যথেষ্ট নয়। মানুষের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক তৈরি করা এবং দলের আদর্শকে ধারণ করে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করাও গুরুত্বপূর্ণ।
সাংবাদিকতা পেশাও ফারহানের চিন্তা ও কর্মকাণ্ডে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। একজন গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে সমাজের নানা অসঙ্গতি ও মানুষের সমস্যাগুলো কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান তিনি। ফলে জনস্বার্থের বিষয়গুলো নিয়ে তার আগ্রহও তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা মনে করেন, সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা তাকে মানুষের কথা আরও গভীরভাবে বুঝতে এবং ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে সহায়তা করবে।
ফারহানকে কাছ থেকে দেখা কয়েকজন তরুণের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো মানুষের সঙ্গে সহজে সম্পর্ক তৈরি করতে পারা। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ব্যক্তিগত সৌজন্য বজায় রাখার চেষ্টা করেন তিনি। বয়সে ছোট-বড় সবার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে মিশতে পারার কারণে তরুণদের পাশাপাশি বয়োজ্যেষ্ঠদের কাছেও তার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে বলে জানান তারা।
বগুড়ার একাধিক সিনিয়র নেতার প্রত্যাশা, রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের যারা এগিয়ে আসছেন তাদের মধ্যে শিক্ষিত ও মার্জিত নেতৃত্বের বিকাশ ঘটুক। তাদের মতে, এসএম ফারহান লাবিবের মতো তরুণরা যদি সততা, সৌজন্য, শৃঙ্খলা ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা ধরে রাখতে পারেন তাহলে ভবিষ্যতে তারা সমাজ ও রাজনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবেন।
একাধিক সিনিয়র নেতার ভাষ্য, “রাজনীতিতে দীর্ঘদিন টিকে থাকতে হলে মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা অর্জন করতে হয়। ফারহানের মধ্যে সেই সম্ভাবনা রয়েছে। তার ব্যবহার ভালো এবং মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের সক্ষমতাও আছে। আমরা আশা করি সামনে সে আরও ভালো করবে।”
নেতাকর্মীদের মতে, রাজনীতির কঠিন সময়ে যারা মাঠে ছিলেন তাদের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফারহান লাবিবও আন্দোলন-সংগ্রামের সময় সক্রিয় থাকার পাশাপাশি বর্তমানে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থেকে নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করছেন। একই সঙ্গে সাংবাদিকতা তাকে সমাজ ও মানুষের বাস্তব চিত্র জানার সুযোগ করে দিচ্ছে।
উল্লেখ্য, এসএম ফারহান লাবিব একজন সাংবাদিক এবং বগুড়ার শেরপুর পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক। সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মী হিসেবেও তিনি সক্রিয় রয়েছেন। তার সহকর্মী ও নেতাকর্মীরা তাকে একজন শিক্ষিত, মার্জিত, ভদ্র ও সংগ্রামী তরুণ হিসেবেই উল্লেখ করেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার অভিজ্ঞতা, সাংবাদিকতার বাস্তবতা এবং মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক – এই তিনটি শক্তিকে কাজে লাগিয়ে আগামী দিনে আরও বড় পরিসরে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা রয়েছে এসএম ফারহান লাবিবের। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ, প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার সংগ্রামের চেতনা এবং তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও আস্থাকে সামনে রেখে তরুণ প্রজন্মের রাজনীতিতে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার প্রত্যয় নিয়েই এগিয়ে যেতে চান তিনি।
সৌজন্য, ভদ্রতা, মার্জিত শিক্ষাগত যোগ্যতা ও নেতৃত্বগুণকে সঙ্গে নিয়ে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় এই তরুণকে ঘিরে তাই আশাবাদী স্থানীয় মানুষ ও নেতাকর্মীরা। তাদের প্রত্যাশা, সময়ের সঙ্গে অভিজ্ঞতা অর্জন করে এসএম ফারহান লাবিব ভবিষ্যতে বগুড়ার রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন এবং মানুষের প্রত্যাশার জায়গায় নতুন আশার আলো দেখাবেন।
মন্তব্য করুন