
রাতের আঁধারে কুমিল্লার দেবিদ্বার সুজাত আলী সরকারি কলেজ হোস্টেলের কোটি টাকা মূল্যের জায়গা দখল করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। জায়গা দখলের সুবিধার্থে হোস্টেল ক্যাম্পাসের প্রায় ১৫টি গাছ কেটে ফেলারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর প্রতিবাদে (১৮ জুন) বৃহস্পতিবার দুপুরে হোস্টেল ক্যাম্পাসে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা হাতুড়ি দিয়ে নবনির্মিত অবৈধ প্রাচীরটি গুঁড়িয়ে দেয়।
স্থানীয় অধিবাসী ও হোস্টেল আবাসিক সূত্রে জানা গেছে, বিগত দুই দিন যাবৎ একটি প্রভাবশালী মহল রাতের আঁধারে হোস্টেলের জায়গা দখলে নেওয়ার জন্য তৎপরতা চালাচ্ছিল। প্রথমে তারা হোস্টেলের পেছনের আবাসিক এলাকার পানি নিষ্কাশনের অজুহাত দেখিয়ে ড্রেন নির্মাণের কথা বলে। এরপর ড্রেন করার নামে ক্যাম্পাসের ভেতরের প্রায় ১৫টি গাছ কেটে সাবাড় করা হয়। তবে ড্রেন নির্মাণ না করে রাতের ব্যবধানে মাটি ফেলে জায়গাটি ভরাট করা হয় এবং রাতারাতি একটি সীমানা প্রাচীর তুলে কলেজের বেশ কিছু জায়গা দখলে নেওয়া হয়।
আজ সকালে এই খবর ছড়িয়ে পড়লে কলেজ ক্যাম্পাস ও হোস্টেলে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। ক্লাস বর্জন করে কয়েকশত ছাত্র-ছাত্রী হোস্টেল ক্যাম্পাসে এসে জড়ো হয় এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে হাতুড়ি দিয়ে অবৈধভাবে নির্মিত প্রাচীরটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়।
আন্দোলনরত কয়েকজন আবাসিক ছাত্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের চোখের সামনে কলেজের কোটি টাকার সম্পত্তি দখল হয়ে যাবে, তা আমরা মেনে নিতে পারি না। পানি নিষ্কাশনের মিথ্যা অজুহাত দিয়ে আমাদের হোস্টেলের ১৫টি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে এবং এক রাতের মধ্যে দেয়াল তুলে জায়গা দখল করা হয়েছে। আমরা আমাদের ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও সম্পত্তি রক্ষায় যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত।”
এ প্রসঙ্গে কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ এবং সদ্য যোগদান কৃত কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান আহসান পারভেজ সাংবাদিকদের বলেন আমি মিটিংয়ে আছি, এই মুহূর্তে কথা বলতে পারব না। বর্তমান প্রিন্সিপালের সাথে কথা বলুন।
এ প্রসঙ্গে দেবিদ্বার পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ ফয়সল উদ্দিন বলেন, বিষয়টি নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও যাতায়াতকারী বাসিন্দাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও সাবেক ইউএনও মহোদয় গাছ কাটার অনুমোদন দেন, সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কোন অনুমতি দেওয়া হয়নি।
এ ব্যাপারে ইউএনও আশোক বিক্রম চাকমা বলেন, আমি কয়েকদিক আগে যোগদান করেছি। যতটুকু জানি জায়গাটি কলেজের, কয়েকটি পরিবারের যাতায়াতের জন্য -রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করেছে। দুই পক্ষের সাথে কথা বলে পরবর্তী ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন