
৫ জুলাই থেকে রাঙ্গামাটিতে মৌসুমি বৃষ্টিপাত শুরু হয়। ৬ জুলাই থেকে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়তে থাকে এবং ৬ – ১০ জুলাই পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন জেলার অধিকাংশ উপজেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়। এতে পাহাড়ি ঢল, বন্যা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি একযোগে বৃদ্ধি পায়। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়, অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়।
পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় জেলা প্রশাসন পর্যায়ক্রমে আশ্রয়কেন্দ্র চালু করে। শুরুতে ৩০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ১৫৮ জন আশ্রয় নেন। পরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা বেড়ে ৩৪টিতে দাঁড়ায় এবং সেখানে মোট ৪ হাজার ৩৬৫ জন মানুষ আশ্রয় গ্রহণ করেন।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিলাইছড়ি, বরকল, কাপ্তাই, কাউখালী, নানিয়ারচর, রাজস্থলী, বাঘাইছড়ি ও রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা। বিশেষ করে বিলাইছড়ির ফারুয়া ইউনিয়ন, কাপ্তাইয়ের নিম্নাঞ্চল এবং কাউখালীর বেশ কয়েকটি এলাকায় ঘরবাড়ি, সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। দুর্যোগে জেলার বিভিন্ন স্থানে দুইজনের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে।
১২ জুলাই রাঙ্গামাটি সফর করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে জানান, সরকার দুর্গত মানুষের পুনর্বাসনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি রাঙ্গামাটির জন্য ৫০০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দের কথা জানান এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ঋণের কিস্তি আদায়ে সাময়িক শিথিলতার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনার কথাও তুলে ধরেন।
১১ জুলাই থেকে ভারী বৃষ্টির প্রবণতা কমতে শুরু করে এবং ১২ জুলাই থেকে আবহাওয়া ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে থাকে। এরপর বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টিপাত হলেও টানা ভারী বর্ষণের পরিস্থিতি আর ফিরে আসেনি।
দুর্যোগের শুরু থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে ছিলেন রাঙ্গামাটি-২৯৯ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। ৭ জুলাই থেকে তিনি রাঙ্গামাটি সদরসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ও আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন শুরু করেন। পরে পর্যায়ক্রমে কাপ্তাই, কাউখালী, বরকল, বিলাইছড়িসহ বিভিন্ন দুর্গত এলাকায় গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম তদারকি করেন। সর্বশেষ ১৪ জুলাই তিনি বিলাইছড়ি উপজেলার বন্যাদুর্গত ফারুয়া ইউনিয়ন পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।
আজ (১৫ জুলাই) রাঙ্গামাটিতে কোনো বৃষ্টিপাত নেই। আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া স্বাভাবিক রয়েছে। অধিকাংশ স্থানে বন্যার পানি নেমে গেছে এবং মানুষ নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে পানি সরে যাওয়ার পর এখন ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, বসতঘর, কৃষিজমি ও অবকাঠামোর প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠছে। অনেক এলাকায় পুনর্বাসন, সড়ক মেরামত এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সহায়তা কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।
মন্তব্য করুন