
দেশের অর্থনীতির প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দরে আসন্ন সিবিএ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরগরম হয়ে উঠেছে বন্দর এলাকা। সাধারণ শ্রমিক ও কর্মচারীদের অধিকার আদায়ে এবার পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে মাঠে নেমেছেন পরিবহন বিভাগের সুপরিচিত মুখ মোঃ কামরুল হাসান চৌধুরী।
শনিবার (৯ মে) বন্দর সংশ্লিষ্ট শ্রমিক-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় তিনি পরিবর্তনের এই ডাক দেন। এসময় তিনি বন্দরের উন্নয়ন ও জাতীয় অর্থনীতি সচল রাখতে শ্রমিকদের ত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
সংকটে ও সংগ্রামে শ্রমিকদের ভূমিকার কথা স্বরণ করে কামরুল হাসান চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বলেন, বছরের পর বছর ধরে শ্রমিকরা দিন-রাত পরিশ্রম করে বন্দরকে সচল রেখেছেন। বিশেষ করে করোনা মহামারীর ভয়াবহ সময়েও যখন সবকিছু থমকে ছিল, তখন বন্দর সচল রাখতে শ্রমিকরা ২৪ ঘণ্টা কাজ করেছেন। এমনকি জাতীয় স্বার্থে নিজেদের একদিনের বেতন সরকারি তহবিলে জমা দিয়ে দেশপ্রেমের অনন্য নজির স্থাপন করেছিলেন তারা।
শ্রমিকদের ত্যাগের তুলনায় তাদের প্রাপ্য মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় বর্তমান নেতৃত্বের সীমাবদ্ধতার দিকে আঙুল তুলেছেন তিনি। কামরুল হাসান চৌধুরী বলেন, “আপনারাই আমার শক্তি। কিন্তু যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে আজ আমরা অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছি। এখন আর চুপ থাকার সময় নেই; সময় এসেছে পরিবর্তনের মাধ্যমে নিজেদের অধিকার বুঝে নেওয়ার।”
একটি আধুনিক ও শক্তিশালী শ্রমিক সংগঠন গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি পাঁচটি মূল স্তম্ভের ওপর জোর দিয়েছেন:
১. অধিকারের নিশ্চয়তা: ন্যায্য দাবি আদায়ে কোনো আপস না করা।
২. স্বচ্ছ নেতৃত্ব: প্রতিটি পদক্ষেপে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
৩. সম্মান ও মর্যাদা: সাধারণ কর্মচারীদের অবহেলা ও অন্যায়ের হাত থেকে রক্ষা করা।
৪. নিরাপদ কর্মপরিবেশ: প্রতিটি বিভাগে আধুনিক সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং
৫. ভয়মুক্ত পরিবেশ: শ্রমিকদের কণ্ঠস্বরকে শক্তিশালী ও সাহসের প্রতীকে পরিণত করা।
পরিবহন বিভাগের এই নেতা আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ভোট কেবল একটি সিল নয়, এটি অধিকার আদায়ের হাতিয়ার।” তিনি শ্রমিকদের সুখে-দুখে পাশে থাকার এবং একটি নির্ভীক প্ল্যাটফর্ম গঠনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কামরুল হাসান চৌধুরীর এই পরিবর্তনের ডাক সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে, যা আসন্ন নির্বাচনের সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
মন্তব্য করুন