
বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি )র চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। সম্প্রতি পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতি ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ দেখা গেল ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন কর্মসূচি দেখা যায় নি।এতে শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
গত শনিবার (৩০ মে) শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি কর্তৃক আয়োজিত কর্মসূচিতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেন। এদিন বংশাল, ধোলাইখাল, জুরাইনসহ বিভিন্ন এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এদিন সাধারণ মানুষের সাথে মতবিনিময়, দোয়া মাহফিল ও স্মরণসভাসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়।
তবে পুরান ঢাকার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলো না কোন কর্মসূচি। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় খালেদা জিয়ার হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি পুরান ঢাকার সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বহন করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বেগম খালেদা জিয়া প্রতিষ্ঠিত করেছেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে আজ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বহুমুখী সংকটে আবদ্ধ। এখানে পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধাসহ নানা সংকটে শিক্ষার্থীরা ভুগছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় নেতারা বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করলেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত হলেও আলোচনার বাইরে থাকে।
সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক কর্মসূচিতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেন। তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের সাথে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন মতামত তুলে ধরেন।তবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত হলেও জাতীয় নেতাদের কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দুতে আসছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই আবাসন সমস্যাসহ নানা ধরনের সংকটের মধ্য আবোদ্ধ।তারা বিভিন্ন সময়ে আবাসন ও দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নিয়ে আন্দোলন করলে ও জাতীয় রাজনীতিতে কম গুরুত্ব পেয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বহুমুখী সংকটে আবদ্ধ থাকায় জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতি ও কেউ আসতে পারছে না।
অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের একাংশের প্রত্যাশা, দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা শুধু রাজনৈতিক ও সামাজিক মতামত তুলে ধরবেন না সেইসাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাগত ও অবকাঠামোগত সমস্যা নিয়েও সরাসরি আলোচনা করবেন। তাদের মতে, পুরান ঢাকার সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় নেতাদের মনোযোগ পাওয়ার দাবিদার।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন রাজনৈতিক প্রোগ্রাম যান নি। তবে আমারা চেষ্টা করছি কোন বিশেষ ইভেন্টে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আমন্ত্রণ জানানো হবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, পরিবহন প্রশাসক এবং ইউট্যাবের প্রচার সম্পাদক তারেক বিন আতিক বলেন, যেহেতু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রতিষ্ঠিত করেছেন সেহেতু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা থাকতেই পারে। উপাচার্যের সাথে আমরা আলোচনা করছি। তিনি প্রধানমন্ত্রী সাথে যোগাযোগ রাখছেন।আশা করি খুব দ্রুতিই কোন একটি ইভেন্ট প্রধানমন্ত্রীকে আমরা কাছে পাব ইনশাআল্লাহ।
তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সাথে যোগাযোগর চেষ্টা করলে তিনি দেশের বাইরে থাকায় যোগাযোগ করা যায় নি।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিত শেষ হলে বিশ্ববিদ্যালয় কে ঘিরে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা রয়ে গেছে। পুরান ঢাকার সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় নেতাদের মনোযোগ পাবে এমন আশাই করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক – শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন