
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় একটি পূর্ণাঙ্গ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন স্থাপনের দাবি দিন দিন জোরালো হচ্ছে। আয়তন ও জনসংখ্যার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই উপজেলায় বহু আগে ফায়ার স্টেশন নির্মাণের জন্য জমি নির্ধারণ করা হলেও আজ পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান নির্মাণকাজ শুরু হয়নি। ফলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রতিনিয়ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা যায়, দৌলতপুর মৌজার হাকিমপুর চুয়া মল্লিকপাড়া এলাকায় প্রায় ০.৮২ একর জমি ফায়ার স্টেশন নির্মাণের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সুরক্ষা সেবা বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ প্রকল্প হিসেবে সেখানে একটি সাইনবোর্ড টানানো থাকলেও বাস্তবে কোনো কার্যক্রমের অগ্রগতি নেই। সাইনবোর্ডে জে.এল. নং-৭৭, দাগ নং-৪৩৩৭ এবং খতিয়ান নং-৫৩৮১ উল্লেখ করে স্থানটি নির্ধারিত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দৌলতপুর উপজেলায় প্রায়ই হাট-বাজার, বসতবাড়ি এবং কৃষিজমিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। কিন্তু নিজস্ব ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় পাশের উপজেলা থেকে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি হয়। এতে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে যায়। অনেক সময় পর্যাপ্ত সরঞ্জাম ও জনবল না থাকায় ক্ষতি আরও বাড়ে।
বিশেষ করে এ অঞ্চলে ব্যাপক হারে পান চাষ হয়ে থাকে, যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। দৌলতপুরের পানের রয়েছে আলাদা বাজারমূল্য। তবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যেই হাজার হাজার পিলি বরজ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে পান চাষিদের বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা স্বপ্ন নষ্ট হয়ে যায় এবং তারা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন।
এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা একটি ফায়ার স্টেশন স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছেন। জমি নির্ধারণের পর কিছুটা আশা জাগলেও নির্মাণকাজ শুরু না হওয়ায় সেই আশা এখন হতাশায় পরিণত হয়েছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
সচেতন মহলের মতে, দৌলতপুরের মতো বৃহৎ জনবসতিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন করা জরুরি। তারা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রশাসনিক জটিলতা দূর করে নির্মাণকাজ শুরু করবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন স্থাপন হলে অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
মন্তব্য করুন