
বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাস অতিবাহিত হলেও ২০১৩ সালের জাতীয়করণ প্রক্রিয়া থেকে বঞ্চিত তিন পার্বত্য জেলা, সাবেক ছিটমহলসহ দেশের প্রায় ৫ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের বিষয়ে এখনো দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। দীর্ঘদিন ধরে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন।
২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি প্রকাশিত গেজেটের মাধ্যমে দেশের ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়। তবে বিভিন্ন কারণে প্রায় ৫ হাজার বিদ্যালয় ওই জাতীয়করণ প্রক্রিয়ার বাইরে থেকে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এসব বিদ্যালয়ের জাতীয়করণের বিষয়টি এখনো অনিষ্পন্ন রয়েছে।
বঞ্চিত বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকরা বলছেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মতোই তারা দীর্ঘদিন ধরে দেশের প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলের শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা দিয়ে আসছেন। বিশেষ করে তিন পার্বত্য জেলা, সাবেক ছিটমহল ও অন্যান্য দুর্গম এলাকার এসব বিদ্যালয় স্থানীয় শিশুদের শিক্ষার অন্যতম প্রধান ভরসা। কিন্তু জাতীয়করণ থেকে বাদ পড়ায় এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক ও সামাজিক বৈষম্যের মধ্যে রয়েছেন।
শিক্ষকদের অভিযোগ, সরকার পরিবর্তনের পর বঞ্চিত বিদ্যালয়গুলোর জাতীয়করণ নিয়ে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছিল। কিন্তু সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান না হওয়ায় শিক্ষকসমাজের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।
বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সাধারণ শিক্ষক ঐক্য পরিষদের মহাসচিব জুয়েল মন্ডল বলেন, “২০১৩ সালের জাতীয়করণ থেকে বাদ পড়া বিদ্যালয়গুলোর বাস্তব অবস্থা যাচাই করে ন্যায্যতা ও যৌক্তিকতার ভিত্তিতে দ্রুত জাতীয়করণের উদ্যোগ নিতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার শিক্ষক পরিবারগুলোর ন্যায্য দাবি এখন আর উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।”
ঐক্য পরিষদের সভাপতি সোহেল রানা বলেন, “অচিরেই সরকারের পক্ষ থেকে বঞ্চিত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের বিষয়ে সুস্পষ্ট ও ইতিবাচক বার্তা দিতে হবে। অন্যথায় বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সাধারণ শিক্ষক ঐক্য পরিষদ একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন ও ঘোষণা করে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বৈষম্যের অবসান এবং ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে দেশের প্রায় ২০ হাজার শিক্ষক ও তাদের পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
বঞ্চিত শিক্ষকরা আশা করছেন, সরকার বিষয়টি মানবিক ও ন্যায্যতার দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে দ্রুত জাতীয়করণের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। দীর্ঘদিনের এই বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে শিক্ষক পরিবারগুলোর মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সরকারের সুস্পষ্ট উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।
মন্তব্য করুন