
বরগুনার আমতলী উপজেলা মানুষের মনে আজ একটাই প্রশ্ন! কেন? ১মাস ২৭দিনের মাথায় এত দ্রুত বদলি করা হলো ওসি আবু সাহাদাৎ মো. হাসনাইন পারভেজকে?
গত ২৭ এপ্রিল ২০২৬ আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন তিনি। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে আসে দৃশ্যমান পরিবর্তন। মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী ও বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেন এই কর্মকর্তা।
মাত্র দু-মাসের ব্যবধানে তিনি শুধু আমতলীর মানুষের মন জয়ই করেননি, বরং বরগুনা জেলার মে-২০২৬ মাসের কর্মদক্ষতা মূল্যায়নে জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি হিসেবেও নির্বাচিত হয়েছেন। মাদক উদ্ধার ও ওয়ারেন্ট তামিলে বিশেষ অবদানের জন্য পুরস্কৃত হয়েছেন তার নেতৃত্বে কর্মরত আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য।
কিন্তু সফলতার এই সময়েই এলো বদলির আদেশ। আর সেই খবরে হতাশ হয়ে পড়েছেন উপজেলার সাধারণ মানুষ। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা মাদক বাণিজ্য, দালালি ও বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছিলেন ওসি হাসনাইন পারভেজ। অপরাধীদের মধ্যে তৈরি হয়েছিল ভয় ও আতংক। আর সাধারণ মানুষের মধ্যে জন্ম নিয়েছিল নিরাপত্তার অনুভূতি।
স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, একজন কর্মকর্তা যখন সৎভাবে দায়িত্ব পালন করে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে শুরু করেন, তখন তার আকস্মিক বদলি মানুষের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়।
আজ আমতলীর চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম— সর্বত্র চলছে একই আলোচনা। সাধারণ মানুষ জানতে চায়, কী কারণে এমন একজন দক্ষ মানবিক জনবান্ধব কর্মকর্তাকে এত দ্রুত বদলি করা হলো?
আমতলীবাসীর প্রত্যাশা, জনস্বার্থ ও এলাকার সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবেন।কারণ, একজন ভালো কর্মকর্তার চলে যাওয়া শুধু একটি বদলি নয়, অনেক সময় তা সাধারণ মানুষের আশা-ভরসারও একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি হয়ে দাঁড়ায়।
মন্তব্য করুন