
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় তুলা চাষ সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের উৎপাদনে উৎসাহিত করতে ২০২৬-২৭ মৌসুমের সরকারি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে উন্নতমানের তুলা বীজ ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে দৌলতপুর উপজেলা অডিটোরিয়ামে তুলা উন্নয়ন বোর্ড, কুষ্টিয়া জোনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য মন্ডল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কুষ্টিয়ার উপ-পরিচালক মোজাদ্দীদ আল শামীম এবং দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহানা পারভীন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা বলেন, কৃষকদের উৎপাদনমুখী করতে এবং কৃষি খাতকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার নিয়মিত বিভিন্ন প্রণোদনা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। তিনি বলেন, দেশে তুলা উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে বস্ত্রশিল্পের কাঁচামাল আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে, পাশাপাশি কৃষকরাও অর্থনৈতিকভাবে আরও লাভবান হবেন। তিনি কৃষকদের সরকারি সহায়তার সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে অধিক উৎপাদনের আহ্বান জানান।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোজাদ্দীদ আল শামীম বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তুলা চাষে অধিক ফলন অর্জন সম্ভব। কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিতে কৃষি বিভাগ সবসময় পাশে থাকবে বলেও তিনি জানান।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহানা পারভীন বলেন, দৌলতপুরের মাটি ও জলবায়ু তুলা চাষের জন্য উপযোগী। বিনামূল্যে বীজ ও কৃষি উপকরণ বিতরণের ফলে এ অঞ্চলে তুলা চাষের পরিধি আরও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিন্দ্য মন্ডল বলেন, কৃষকদের উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকারের প্রণোদনা কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি সঠিক পরিচর্যা ও নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে তুলা চাষে সফলতা অর্জনের আহ্বান জানান এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠান শেষে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্নতমানের তুলা বীজ ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়। সংশ্লিষ্টদের আশা, এ উদ্যোগ দৌলতপুরে তুলা চাষের বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং কৃষকদের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের বস্ত্রশিল্পের কাঁচামাল উৎপাদনেও ইতিবাচক অবদান রাখবে।
মন্তব্য করুন