
রাঙ্গামাটির বরকল উপজেলার বরুনাছড়ি এলাকায় গৃহবধূ আয়েশা বেগম (৪৯) হত্যা ও দস্যুতার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত ১ লাখ ৯৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুর রকিব (পিপিএম)।
পুলিশ সুপার জানান, গত ২১ জুন রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বরকল থানার শুভলং পুলিশ ফাঁড়ি খবর পায় যে, ১নং শুভলং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বরুনাছড়ি (ইসলামপুর) এলাকায় রফিজুল হকের বাড়িতে তার স্ত্রী আয়েশা বেগমের মরদেহ পড়ে রয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ইট ও একটি হাতুড়ি আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়। পরদিন ২২ জুন নিহতের ছেলে আশরাফ আলী বাদী হয়ে বরকল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পেনাল কোডের ৪৪৮/৩৯৪/৩০২/৩৪ ধারায় রুজু করা হয়।
পুলিশ জানায়, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় বরকল থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গঠন করে অভিযান চালানো হয়। তদন্তের একপর্যায়ে গত ২৪ জুন সকালে মামলার সন্দেহভাজন দুই আসামি—সোহাগ (১৭) ও ওমর আলী (১৯)-কে নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ড ও দস্যুতার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সোহাগের বাড়ির পাটাতনের নিচে সাদা পলিথিনে মোড়ানো ১ লাখ ৬ হাজার টাকা এবং ওমর আলীর বাড়ির দক্ষিণ পাশে করলা বাগানে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা ৯৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত অর্থের মোট পরিমাণ ১ লাখ ৯৯ হাজার টাকা।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, নিহত আয়েশা বেগমের আপন ভাতিজা সোহাগ ও তার সহযোগী ওমর আলী টাকার লোভে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়। পরে তারা ঘরে থাকা নগদ অর্থ লুট করে পালিয়ে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, “গৃহবধূ আয়েশা বেগম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছে। তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও মাঠপর্যায়ের তদন্তের সমন্বয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই দুইজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে লুণ্ঠিত অর্থের প্রায় সম্পূর্ণ অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।”
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মন্তব্য করুন