
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে থাইল্যান্ডি জুয়া চক্রের মূল হোতাসহ মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) চাটখিল থানা পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জেলা পুলিশ সুপার এন এম নাসির উদ্দিনের সার্বিক নির্দেশনা এবং চাটখিল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মনীষ দাশের তত্ত্বাবধানে চাটখিল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল মোন্নাফের নেতৃত্বে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে থাইল্যান্ডি জুয়া, মাদক এবং বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানো হয়।
অভিযানের অংশ হিসেবে উপজেলার ৩ নম্বর পরকোট ইউনিয়নের দশঘরিয়া বাজার এলাকার একটি চায়ের দোকানে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় সেখানে থাইল্যান্ডি জুয়ার আসর চলাকালে ছয়জনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে জুয়া পরিচালনায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
থাইল্যান্ডি জুয়া চক্রে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—আব্দুস ছাত্তার, সোহেল হোসেন, নুর নবী, কবির হোসেন, ইকবাল এবং টিপু সুলতান। পুলিশ জানিয়েছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অবৈধ জুয়ার আসর পরিচালনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বিষয়টি আরও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং জড়িত অন্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে পৃথক অভিযানে ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা থেকে পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত জিআর মামলার আসামি আরমান হোসেন রাজুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া জিআর পরোয়ানাভুক্ত আসামি ইব্রাহিম খলিল (ইমন) এবং ধর্ষণচেষ্টা মামলার আসামি আনোয়ার হোসেনকেও গ্রেফতার করা হয়।
একই অভিযানে খিলপাড়া ইউনিয়নের মল্লিকাদীঘির পাড়া এলাকা থেকে ইয়াছিন আরাফাত সৌরভ নামে এক যুবককে গাঁজাসহ আটক করা হয়। পরে তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের (সামারি ট্রায়াল) মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে।
চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মোন্নাফ বলেন, “চাটখিল উপজেলায় কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। জুয়া, মাদক, সন্ত্রাস, পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেফতার এবং অন্যান্য অপরাধ দমনে পুলিশের বিশেষ অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালন করছি।”
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি অপরাধ দমনে পুলিশের এ ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন