
মুসলিমদের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎসব ঈদুল আযহা। ঈদুল আযহা কে কেন্দ্র করে সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটা পর্যটক বরণের অপেক্ষায়। আবাসিক হোটেল-মোটেল রিসোর্ট গুলোতে রয়েছে ৪০-৫০ শতাংশ অগ্রিম বুকিং। ব্যবসায়ীরা বলছেন তাদের দীর্ঘ হতাশা কেটে এবারের ঈদের ছুটিতে ৪ লাখের বেশি পর্যটক সমাগমে মুখরিত হবে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত।
তবে পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর থেকে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে তেমন কোনো পর্যটকের উপস্থিতি চোখে পড়েনি। এই দীর্ঘ দুই থেকে আড়াই মাস পরে আবারও ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের প্রেমের টানে দেশের নানান প্রান্ত থেকে পর্যটকরা আসবেন। এখানকার স্থানীয় ব্যবসায়ীরা পর্যটক বরণে ইতোমধ্যে প্রস্তুত। কুয়াকাটা পর্যটকদের বাড়তি নিরাপত্তা প্রদান করার জন্য সরব রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের বেলাভূমি সাগরকন্যা খ্যাত কুয়াকাটা। নীল জলরাশি, দখিনা হাওয়া এবং বালুকাময় সৈকত—এ সবকিছু মিলিয়ে সাগরকন্যা এখন ভ্রমণপিপাসুদের কাছে অন্যতম একটি ভ্রমণ স্পট। বিশেষ করে পদ্মা সেতুর দ্বার উন্মোচন হওয়ার পর থেকে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে স্বল্প সময়ে দেশের নানা প্রান্ত থেকে কুয়াকাটায় বেড়াতে আসতে পারেন পর্যটকরা। যখনই মানুষ অবসর সময় পায়, তখন চার দেয়াল থেকে বেরিয়ে তারা সমুদ্রে কিংবা পাহাড়-পর্বতে ছুটে যায়। যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তার আমূল পরিবর্তন হওয়ার কারণে কুয়াকাটা এখন মানুষের সবচেয়ে বেশি পরিচিত। এবারে ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে পর্যটক বরণে প্রস্তুত স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
কুয়াকাটার স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ ট্যুর অপারেটর ও আবাসিক হোটেল-মোটেল সংশ্লিষ্টরা জানান, আমরা আশাবাদী যে, এবার ঈদুল আযহায় কুয়াকাটায় কয়েক লাখ পর্যটকের ঢল নামবে। তবে পবিত্র ঈদুল ফিতর পরবর্তী গত দুই মাস ধরে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি এবং তীব্র গরমের কারণে পর্যটক প্রায় শূণ্যের কোঠায় নেমে এসেছিলো। এই ঈদকে ঘিরে আমরা দেশের নানা প্রান্ত থেকে পর্যটকের ভালো সারা পাচ্ছি এবং খোঁজ খবর নিচ্ছেন পর্যটকরা বলে এমনটা জানিয়েছেন কুয়াকাটার পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।
কথা হয় কুয়াকাটা ট্যুর অপারেটর আব্দুল জলিলের সাথে। তিনি জানান, ঈদের ছুটিতে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে পর্যটক সেবার বাড়তি ব্যবস্থা, হোটেল-রিসোর্ট গুলোর নতুনত্ব; পরিপূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সবুজের প্রান্তর দুদিকে কুয়াকাটার জীববৈচিত্র্য ভ্রমণ পিপাসুদের যেমন আকৃষ্ট করে, অপরদিকে সমুদ্রের বড় বড় ঢেউ এবং নীল জলরাশি, দখিনা হাওয়া—এসবকিছু কুয়াকাটা ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করছে পর্যটকদের। এখানকার নিরাপত্তার প্রশ্নে আগত পর্যটকের কোনো অভিযোগ নেই। তাই কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত ভ্রমণ নিরাপদ।
কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য ও হোটেল মোটেল অনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ফিন্যান্স সেক্রেটারি রাসেল খাঁন বলেন, ঈদুল আযহার ছুটিতে অধিকাংশ প্রথম শ্রেনীর আবাসিক হোটেল গুলোয় ৪০-৫০ শতাংশ অগ্রিম বুকিং রয়েছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেনীর হোটেলে পর্যায়ক্রমে ৩০-৪০ শতাংশ অগ্রিম বুকিং রয়েছে। আশা করছি কাঙ্ক্ষিত পর্যটকের সারা পেলে মুখরিত হবে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত।
তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই সমুদ্র সৈকতে পর্যটকের সমাগম শুরু হয়েছে। ট্যুরিস্টদের যথেষ্ট নিরাপত্তা বা নির্বিঘ্নে চলাফেরা করা এখানে আগে থেকেই আছে। এখানে কোনো অভিযোগ বা কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার নজির নেই। ট্যুরিস্টরা আসলে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারে। এখানে বিনোদনের যথেষ্ট সময় কাটাতে করতে পারেন। সমুদ্র ও স্থলপথে উভয়ই ভ্রমন করতে পারেন আগতরা। তাই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ ভ্রমনে এখন কুয়াকাটামুখী।
ট্যুরিস্ট পুলিশের কুয়াকাটা জোনের সহকারী পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান জানান, আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে আগত পর্যটকদের বাড়তি নিরাপত্তা দিতে। কুয়াকাটা সৈকত ছাড়াও অন্যান্য স্পষ্টগুলোয় যথেষ্ট— দুই থেকে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় সাজানো হয়েছে। সার্বক্ষণিক প্রশাসন সব জায়গায়ই আছে। কুয়াকাটার পূর্বে সানসেট পয়েন্ট গঙ্গামতি ও সূর্যাস্ত পয়েন্ট লেম্বুর চর সহ পার্শ্ববর্তী যতগুলো স্পট আছে আমরা সব জায়গায়ই আছি।
তবে দীর্ঘ পর্যটক খরা কাটিয়ে এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠবেন এখানকার পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা এমনটাই জানিয়েছন এই কর্মকর্তা।
মন্তব্য করুন