
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় চাচাতো ভাইদের হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মামুন মোল্লা (৩৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার বাবা মোজা মোল্লা (৭৫) গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের শুকারঘাট এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরে শনিবার (১১ জুলাই) ভোররাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মামুন মোল্লার মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে এলাকায় গরু চুরির চেষ্টার একটি ঘটনার পর ঘটনাস্থলে একটি টর্চলাইট পাওয়া যায়। সেটি মামুন মোল্লার বলে সন্দেহ করেন তার কয়েকজন চাচাতো ভাই। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পূর্বের জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে শুক্রবার বিকেলে মামুনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, জাব্বার মোল্লাসহ কয়েকজন লাঠি ও লোহার শাবল দিয়ে মামুন মোল্লাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। ছেলেকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার বাবা মোজা মোল্লাকেও মারধর করা হয়।
স্থানীয়রা আহত বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে প্রথমে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে মামুনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
নিহতের ভাগ্নে সৌরভ অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এবং গরু চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, হামলায় আহত মামুন মোল্লা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় উজ্জ্বল মোল্লা (৪৮) ও জাব্বার মোল্লা (৩৫) নামে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ বিষয়ে আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মন্তব্য করুন