
চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগ। মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে রায় ঘোষণার পরপরই সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রায়ের প্রতিবাদে তার সমর্থকরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের একাধিক স্থানে অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা উপজেলার ছোট দারোগারহাট এলাকায় জড়ো হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন। একই সময়ে বড়দারোগারহাট ও বাড়বকুণ্ড এলাকায় মহাসড়কের ওপর কাঠ ফেলে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। এছাড়া ভাটিয়ারী ও কুমিরা এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
আন্দোলনরত নেতাকর্মীদের দাবি, আসলাম চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন এবং কারাভোগ করেছেন। তারা আশা করেছিলেন আদালত তাকে শপথ গ্রহণের সুযোগ দেবেন। কিন্তু প্রার্থিতা বাতিলের রায়ে তারা হতাশ হয়েছেন। এ সিদ্ধান্তকে ‘গভীর ষড়যন্ত্র’ উল্লেখ করে তারা রায় পুনর্বিবেচনা এবং তাকে শপথ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা রায়ের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছেন।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আসলাম চৌধুরী বলেন, “জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন না ঘটলে রাজনীতিতে মন খারাপ হওয়াটা স্বাভাবিক। সীতাকুণ্ডের মানুষ সবসময় আমার পাশে ছিল এবং এই কঠিন সময়েও আছে, সেজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই। আমরা পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার পর রিভিউ আবেদন করব। আইনি লড়াইয়ে চূড়ান্ত বিজয় আমাদেরই হবে।”
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. মোরছালিন বলেন, সাধারণ মানুষ এই রায় মেনে নিতে না পেরে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় নেমে এসেছে। তবে দলীয়ভাবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি। তিনি জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দলীয় ফোরামের বৈঠকের পর পরবর্তী আন্দোলনের কর্মসূচি ও রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে।
মন্তব্য করুন