
আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে দেশজুড়ে পরিচিতি পাওয়া নোয়াখালীর আলোচিত ব্যক্তি আজাদ মেম্বারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে অনলাইন ও অফলাইনে উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রোববার (২৮ জুন) দুপুরে নোয়াখালীর সেনবাগ বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বিকেলে তাকে নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার আজাদ মেম্বার সেনবাগ উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এবং ওই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। স্থানীয়ভাবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও রাজনৈতিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন বলে জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আজাদ মেম্বার পেশায় একজন চা বিক্রেতা হলেও আর্জেন্টিনা ফুটবল দল ও তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসির প্রতি গভীর ভালোবাসার কারণে দেশব্যাপী পরিচিতি লাভ করেন। নিজের বাড়ি, দোকান ও আশপাশের এলাকাকে আকাশী-সাদা রঙে সাজিয়ে তিনি এলাকাটির নাম দেন ‘আর্জেন্টিনা নগর’। বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে তার ব্যতিক্রমী আয়োজন দেশীয় গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠান ও টকশোতেও অংশ নিয়ে তিনি আলোচনায় আসেন।
২০২৬ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা শিরোপা জিতলে এলাকাবাসীর জন্য বড় ভোজের আয়োজন করবেন বলেও ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। ফুটবলপ্রেমী হিসেবে তার এই পরিচিতি তাকে সাধারণ মানুষের কাছে আলাদা অবস্থান এনে দেয়।
তবে ফুটবলপ্রেমী পরিচয়ের পাশাপাশি তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় তৃণমূল নেতা হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে অনলাইন ও অফলাইনে উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগেও তিনি রাজনৈতিক মামলায় কারাভোগ করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সেনবাগ থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মিলন জানান, গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজাদ মেম্বারকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, আজাদ মেম্বারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান। বিচার শেষ হওয়ার আগে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে—এমনটি বলা যায় না।
মন্তব্য করুন