
আরিফ মিয়া সালমান (১৮) নিখোঁজ ৩০ দিন ধরে। থানায় অভিযোগ দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না কোন সন্ধ্যান। তাঁর খোঁজে দিনরাত ছুটছেন স্ত্রী, মা, শশুর-শাশুড়ি, বন্ধু/বান্ধবসহ আত্মীয় স্বজন ও পরিবারের সদস্যরা। অপেক্ষায়–উৎকণ্ঠায় তাঁদের দিন কাটছে। পরিবার ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়ে কাঁদলেন মা ও স্ত্রী সাথী আক্তার।
পরিবারের দাবি, যদি তাঁকে মেরেও ফেলা হয়ে থাকে, তবে অন্তত লাশটা যেন খুঁজে বের করে তাঁদের কাছে ফেরত দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নিখোঁজ আরিফ মিয়া সালমানের বাড়িতে পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদিকদের উপস্থিতিতে এ দাবি জানান, তাঁর স্ত্রী সাথী আক্তার ও মা সালমা বেগম।
নিখোঁজ আরিফ মিয়া সালমানে বাড়ি হোসেনপুর উপজেলার সাহেদল ইউনিয়নের দক্ষিণ কুড়িমারা গ্রামে। তিনি পেশায় একজন কৃষক।
পরিবার সূত্রে জানায়, গত ১৭মে সন্ধ্যায় প্রতিদিনের মতো আরিফ মিয়া সালমানের বন্ধু শান্ত মিয়া বাড়ি থেকে ঘুড়ার উদ্দেশ্যে নিয়ে যায়, গভীর রাতে সালমান বাড়িতে না ফিরলে তাকে খুঁজাখুঁজি শুরু করেন। শান্ত কে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, সে তো বাড়িতে চলে গেছেন তার সাথে নেই। সে থেকেই আরিফ সালমানে খুঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তার খুঁজ না পেয়ে এর পরদিন ১৮ জুন আরিফ মিয়া সালমানের পিতা মোঃ ফজলুর রহমান হোসেনপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
সংবাদিকদের সাথে বক্তব্যে কান্নাজড়িত কন্ঠে স্ত্রী সাথী আক্তার বলেন, আরিফ মিয়া সালমানের সাথে নিখোঁজ হওয়ার ১ মাস আগে খেলা নিয়ে ঝগড়া হয় শান্ত মিয়ার। স্ত্রীর দাবি, শান্ত মিয়াই নিখোঁজ হওয়ার সাথে জড়িত থাকতে পারে। এ ছাড়া কারো সাথে কোন ঝগড়া বা ঝামেলা নেই আরিফ মিয়া সালমানের। ১৭ মে তারিখ সন্ধ্যার পর থেকেই মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায় সালমানের। দু দিন পর হোসেনপুর বাজার একটি মেকারের দোকানে সিম ও মোবাইল পাওয়া যায়। মোবাইল ডিসপ্লে নষ্ট ও কাঁদা মাখা। প্রথমে দোকান মালিক কথা বলতে নারাজ হলেও পরে এলাকাবাসীর চাঁপে স্বীকার করেন শান্তর কাছ থেকেই মোবাইল কিনে রেখেছেন তিনি।
সাহেদল ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল আহাদ জানান, শান্ত এর পিছনে জড়িত এতে কোন সন্দেহ নেই। তবে এ বিষয়ে অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ আজিজুর রহমান শান্ত কে গ্রেফতার করে রিমান্ডের দাবি জানান। কিন্তু শান্ত কে গ্রেফতার না করে জামাই আদরে কথা বলে ছেড়ে দেন।
এ বিষয়ে হোসেনপুর থানা ইনর্চাজ মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম জানান— আরিফ মিয়া সালমান, তিনি নিজেই মোবাইল বিক্রি করে হোসেনপুর একটি দোকানে। সে আবার তার মোবাইলের পাসওয়ার্ড দিয়ে যান দোকান মালিককে।
মন্তব্য করুন