
আধুনিকতার ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য আর ধর্মীয় অনুশাসনকে পুনরুজ্জীবিত করতে নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার ছয়ানী টবগা সর্দার বাড়িতে আয়োজন করা হলো এক ব্যতিক্রমধর্মী সম্মিলিত ভোজনের।
মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে কয়েক শ’ মানুষ কোনো টেবিল-চেয়ার ছাড়াই সরাসরি মাটিতে বসে একসঙ্গে খাবার গ্রহণ করেন। ইসলামী সুন্নাহ অনুসরণ করে আয়োজিত এই ভোজন উৎসব এলাকায় এক অভূতপূর্ব সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের মেলবন্ধনে পরিণত হয়েছে।
সুন্নাহ ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন: আয়োজকরা জানান, মাটিতে বসে খাবার খাওয়া ইসলামের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ। পাশাপাশি এটি বাংলার হাজার বছরের গ্রামীণ সংস্কৃতিরও অবিচ্ছেদ্য অংশ। বর্তমানের ‘বুফে’ বা ‘হাই-টেবিল’ কালচারের যুগে বিনয় এবং সমতার এই প্রাচীন রীতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রীতির অনন্য চিত্র: অনুষ্ঠানে কেবল মুসলিম ধর্মাবলম্বীর বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। কোনো ভেদাভেদ ছাড়াই সবাই সারিবদ্ধভাবে মাটিতে বসে খাবার ভাগাভাগি করেন। অংশগ্রহণকারীদের মতে, উঁচু-নিচু বা ধনী-দরিদ্রের পার্থক্য ভুলে এভাবে একসঙ্গে বসা মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সামাজিক সংহতি বৃদ্ধি করে।
আয়োজন ও খাবারের বৈচিত্র্য: বিশাল এই দস্তরখানে পরিবেশন করা হয় ঐতিহ্যবাহী দেশীয় খাবার। মেনুতে ছিল ধোঁয়া ওঠা গরম ভাত, গরুর মাংস, ডাল, নানা পদের সবজি এবং ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন। মাটির সান্নিধ্যে বসে খাবার গ্রহণের এই দৃশ্য দেখতে উৎসুক গ্রামবাসীর ভিড়ও ছিল চোখে পড়ার মতো।
একজন মেহমান জানায়, “মাটিতে বসে একসঙ্গে খাওয়ার মধ্যে যে আন্তরিকতা ও তৃপ্তি আছে, তা অন্য কোথাও পাওয়া সম্ভব নয়। এখানে এসে মনে হচ্ছে আমরা সবাই একটি বড় পরিবারের সদস্য।”
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ধরনের আয়োজন কেবল একটি খাবারের অনুষ্ঠান নয়; এটি সমাজে সহনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ এবং ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করার একটি শক্তিশালী মাধ্যম।
ছয়ানী টবগা হাসান আলী সর্দার বাড়ির এই সম্মিলিত ভোজন প্রমাণ করেছে যে, সুন্নাহ ও সংস্কৃতির সঠিক চর্চা সমাজে শান্তি ও ঐক্যের বার্তা পৌঁছে দিতে পারে।
স্থানীয়রা আশা করছেন, এই ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতে আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে এবং সামাজিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে।
মন্তব্য করুন