
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের ১২৭নং হিজলা চন্ডিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাতের আঁধারে এক চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত ৮ জুন আনুমানিক রাত ১২টা থেকে ভোর ৪টার মধ্যবর্তী সময়ে এই চুরির ঘটনাটি ঘটে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, চোরেরা স্কুল থেকে ২টি ল্যাপটপ, ১টি প্রজেক্টর, ১টি প্রিন্টার ও ২টি এলইডি টিভি নিয়ে গেছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মিতা মণ্ডল জানান, সকালে শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে এসে প্রধান গেটের তালা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। চোরেরা স্কুলের সবকটি সিসি ক্যামেরাও ভেঙে ফেলেছে। এরপর তারা ক্লাস রুম ও অফিস রুমে প্রবেশ করে ল্যাপটপ, কম্পিউটার এবং প্রিন্টারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যায়।
আরেক শিক্ষিকা তনুশ্রী ঘোষ সাংবাদিকদের জানান, চোরেরা পরিকল্পিতভাবে প্রথমে বিদ্যালয়ের পেছনের বিদ্যুতের মিটার থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এরপর তালা ও সিসি ক্যামেরাগুলো ভেঙে এই চুরি সংগঠিত করে। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, বিগত সময়েও এই বিদ্যালয়ে একই রকম চুরির ঘটনা ঘটেছে, তবে শিক্ষকরা তার কোনো সমাধান পাননি। এই ঘটনায় প্রধান শিক্ষকসহ সহকারী শিক্ষকরা থানায় গেছেন এবং তারা আশা করছেন দ্রুতই চোর আটক হবে এবং এর একটি স্থায়ী সমাধান মিলবে।
এদিকে বারবার চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। স্থানীয়দের পক্ষে মো. সোহেল জানান, এই বিদ্যালয় থেকে বারবার চুরির ঘটনা ঘটছে, যা খুবই উদ্বেগজনক। প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এর স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। সরকারি সম্পদ ও শিক্ষার্থীদের পাঠদানের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এভাবে চুরি হয়ে গেলে শিশুদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সুরক্ষায় এখন জরুরি ভিত্তিতে একজন নৈশপ্রহরী (নাইটগার্ড) নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
মন্তব্য করুন