
আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল আযহা উদযাপন উপলক্ষে সড়ক পথে ঘরমুখো যাত্রীসাধারণের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে এক বিশেষ নিরাপত্তা ও সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ সোমবার (১৮ মে) সকাল ১১টায় দামপাড়াস্থ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) সদর দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সিএমপি কমিশনার জনাব হাসান মোঃ শওকত আলী মহোদয়ের সভাপতিত্বে সভায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সড়ক পরিবহন সেক্টরে শৃঙ্খলা জোরদারকরণ, সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ এবং যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
সিএমপি কমিশনার তাঁর বক্তব্যে সড়কে খেলাপি মোটরযান, ফিটনেসবিহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন এবং ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’ অনুযায়ী কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেন। একই সাথে তিনি যানজট নিরসনে ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
সভায় গৃহীত প্রধান পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্তসমূহ:
অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ ও ভাড়ার চার্ট প্রদর্শন: চট্টগ্রাম শহরের দামপাড়া, অলংকার, একে খান, ইপিজেড, বন্দর, কাঠগড়, অক্সিজেন মোড়, বহদ্দারহাট, শাহ আমানত ব্রিজ এলাকা এবং কদমতলী টার্মিনালসহ বিভিন্ন পয়েন্টে মোটরযানের সুশৃঙ্খল চলাচল নিশ্চিত করা হবে। যাত্রীদের সুবিধার্থে গণপরিবহনের দৃশ্যমান স্থানে এবং বাস টার্মিনাল বা স্ট্যান্ডের বিলবোর্ডে বিদ্যমান ভাড়ার চার্ট প্রদর্শন করতে হবে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঈদযাত্রায় যানজট মুক্ত রাখতে ঈদের আগের ৩ দিন ও পরের ৩ দিন (অর্থাৎ ২৫ মে ২০২৬ থেকে ৩১ মে ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত) মহাসড়কে ট্রাক, কভার্ডভ্যান ও লরি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। তবে কোরবানির পশুবাহী যানবাহন, ওষুধ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বন্দরের মালামাল এবং গার্মেন্টস পণ্যবাহী যানবাহন এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।
ফিটনেসবিহীন যান ও পণ্যবাহী গাড়িতে যাত্রী পরিবহন নিষিদ্ধ: সড়কে কোনো লক্কর-ঝক্কর, ফিটনেসবিহীন ও ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি চলতে দেওয়া হবে না। একই সাথে পণ্যবাহী কোনো মোটরযানে (যেমন ট্রাক বা পিকআপ) যাত্রী পরিবহন সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা হবে।
গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ ও সচেতনতা: ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনা এড়াতে “মোটরযান গতিসীমা নির্দেশিকা, ২০২৪” অনুযায়ী নির্ধারিত গতিসীমা মেনে গাড়ি চালাতে হবে। চালকদের সচেতনতায় সড়ক ও মহাসড়কে সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্দেশক পর্যাপ্ত সাইন ও সাইনবোর্ড স্থাপন করা হবে।
যৌথ মনিটরিং টিম গঠন: মাঠপর্যায়ে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য সিএমপি, বিআরটিএ এবং মালিক-শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে পৃথক ‘ভিজিল্যান্স টিম’ ও ‘মনিটরিং টিম’ গঠন করা হয়েছে।
এছাড়াও সভায় সিএমপির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতাসহ সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে নিজ নিজ মতামত ব্যক্ত করেন এবং সিএমপির সিদ্ধান্তের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন।
মন্তব্য করুন