
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফ হোসাইন শান্তর একটি ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য (কমেন্ট) করাকে কেন্দ্র করে এক শিক্ষার্থীকে শাসিয়ে ও চাপ প্রয়োগ করে সেই মন্তব্য মুছে ফেলানোর অভিযোগ উঠেছে শান্তর বিরুদ্ধে। অভিযোগকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাজমুল ঢালি।
অভিযোগকারী নাজমুল ঢালির ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি ছাত্রদল নেতা আরিফ হোসেন শান্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সামনের আরসিসি সড়ক নির্মাণকাজ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদকে ধন্যবাদ জানিয়ে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দেন। ওই পোস্টে নাজমুল ঢালি ভিন্নমত পোষণ করে একটি মন্তব্য করেন।
ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদকের উক্ত ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যে নাজমুল ঢালি লেখেন, ‘এই কাজটা এমনিতেই হইতো, ক্রেডিট নেওয়ার কিছু নেই! নেক্সট দ্রুত কোন কাজের দৃশ্য দেখার অপেক্ষায় রইলাম’ মন্তব্যের রিপ্লেতে আরিফ হোসাইন লেখেন, এমনিতেই হওয়া আর দ্রুত গতিতে কাজ সম্পন্ন করা এক জিনিস নয়, ছোট ভাই। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা একটি কাজ বাস্তবায়নের জন্য যথাযথ উদ্যোগ, নির্দেশনা ও সমন্বয় প্রয়োজন হয় যেটাই এখন দৃশ্যমান হয়েছে। সবকিছুতে নেগেটিভ খোঁজার আগে একটু পজিটিভ থাকাই ভালো।’
কিছুক্ষণ পরে নাজমুল ঢালিকে মেসেনজারে কল দিয়ে শাসিয়ে বাধ্য করেন কমেন্ট ডিলেট করতে।
নাজমুলের দাবি, তার মন্তব্যটি “আগ্রাসী বা বিরোধিতামূলক” ছিল না। তবে মন্তব্য করার কিছু সময় পর ছাত্রদল নেতা আরিফ শান্ত মেসেঞ্জারে কল দিয়ে তাকে রূঢ় ভাষায় কথা বলেন এবং মন্তব্যটি মুছে ফেলতে বলেন। পরবর্তীতে তার এক সিনিয়রের মাধ্যমে যোগাযোগ করেও কমেন্ট ডিলিট করার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি গ্রুপে নাজমুল ঢালি লেখেন, “ছাত্রদলের সেক্রেটারির একটা পোস্টে একটা কমেন্ট করছিলাম। আগ্রাসী বা বিরোধিতামূলক কমেন্ট ছিল না। এজন্য সে মেসেঞ্জারে কল দিয়ে রূঢ়লি কথাবার্তা বলছে। এমনকি আমার ইমিডিয়েট সিনিয়র দিয়ে কল দিয়ে আবার কমেন্ট ডিলিট করতে বলে। একটা দলের সেক্রেটারি যদি সাধারণত একটা মন্তব্য সহ্য করতে না পারে, সেই আগের যুগের মতো আচরণ করে তাহলে এটা কি শোভনীয় হলো?”
স্ক্রিনশট বিশ্লেষণে দেখা যায়, আরিফ হোসেন শান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়ক উন্নয়নকাজ নিয়ে উপাচার্যকে ধন্যবাদ জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন, যেখানে সংশ্লিষ্ট কমেন্ট করা হয়েছিল বলে অভিযোগকারী দাবি করেন।
এদিকে, ববি ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের এই নেতার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্কের ঘটনা এর আগেও সামনে আসে। ২০২৩ সালে ফেসবুকে “হা-হা” রিয়্যাক্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে সহপাঠীকে মারধর করে নাক ফাঁটিয়ে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। সে সময় বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশিত হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ববি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসাইন শান্ত বলেন, নাজমুল ঢালির সাথে আমি কথা বলেছি! আমি বলেছি যে নাজমুল ঢালি একটা কাজ দ্রুত হওয়া আর দেরিতে হওয়া আলাদা বিষয়। একটা কাজ দ্রুত গতিতে হওয়া সেটা আামাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ভালো। সবকিছু নেগেটিভ চিন্তাভাবনা না করে পজিটিভ চিন্তা করা আমাদের জন্য ভালো। এগুলো তাকে আমি বলেছি। নাজমুলের সাথে আমার কোনো নেগেটিভ সম্পর্ক নেই , তার সাথে আমার ভালো সম্পর্ক আছে।’
মন্তব্য করুন