
বগুড়ার শেরপুরে এক সেচ পাম্প ব্যবসায়ীর কাছে এক লক্ষ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
উপজেলার ভাটরা গ্রামের মৃত আলিমুদ্দিন শেখের ছেলে মোঃ আফছার আলী বাদী হয়ে রোববার (১৭ মে) শেরপুর থানায় এই অভিযোগ দায়ের করেন। তবে অভিযুক্তরা চাঁদাবাজির এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী আফছার আলী একজন গভীর নলকূপ সেচ পাম্প ব্যবসায়ী। গত ১ এপ্রিল সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে তিনি ভাটরা গ্রামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে শেরপুরের বাসায় ফিরছিলেন। পথে ভাটরা পুরাতন ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন সড়কে পৌঁছালে অভিযুক্তরা তার পথরোধ করে ১ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এ সময় তাঁর ভাই ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাকেও এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন, মেহেদী (৩০), সজিব (২০), মিনহাজুল (২৮), মিন্টু (৩২), সাইদুল ইসলাম (৪৫), আব্দুল মজিদ মন্ডল (৫৫), এনামুল হক (২৫), জাকারিয়া (২৫), শহিদুল ইসলাম (৩৫), ইসমাইল হোসেন (৩৫) ও আবু তাহের (২৫)।
অভিযোগের বিষয়ে মামলার প্রধান অভিযুক্ত মেহেদী বলেন, “সেদিন গ্রামে মেম্বার ও চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি বৈঠক ছিল। সেখানে আমরাও উপস্থিত ছিলাম। তুচ্ছ ঘটনায় গ্রামের কিছু লোক আফছারের ভাইকে কিছুটা মারধর করেছে, এটি সত্য। কিন্তু চাঁদাবাজির যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” অপর অভিযুক্ত মিন্টুও একই দাবি করে বলেন, চাঁদাবাজির কোনো ঘটনাই সেখানে ঘটেনি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাদী আফছার আলীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মামলার বিষয়ে প্রশ্ন করতেই ফোনটি কেটে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার চেষ্টা করলেও তিনি আর ফোন ধরেননি।
শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন জানান, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন