
চলমান অস্থিরতা ও প্রশাসনিক সংকটের মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) নতুন ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওশানোগ্রাফির ডিন প্রফেসর ড. মামুন অর রশিদ। এতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে জারি করা ও সহকারী সচিব মো: সুলতান আহমেদ সাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রিপন বলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে আমরা দক্ষ ও প্রশাসনিকভাবে অভিজ্ঞ একজন উপাচার্য প্রত্যাশা করেছিলাম। কিন্তু যাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাকে ঘিরে নানা অভিযোগ ও বিতর্ক থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আমরা মনে করি, এমন পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে যোগ্যতা, স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক দক্ষতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
আপ-বাংলাদেশের ববি শাখার আহ্বায়ক মাইনুল ইসলাম বলেন, “আমাদের নতুন ভিসির বিভিন্ন কলুষিত অতীত ইতোমধ্যে আমাদের সামনে আসতে শুরু করেছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়। আমরা এমন ব্যক্তিকে আমাদের পবিত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে মেনে নিতে পারছি না। দক্ষিণবঙ্গের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হিসেবে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন ভিসি নিয়োগ আমাদের জন্য হতাশার। আমরা এমন ভিসি চাই, যার দেশজুড়ে খ্যাতি আছে, শিক্ষা ও গবেষণায় অবদান আছে এবং প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা আছে। সর্বোপরি এমন ভিসি চাচ্ছি যিনি স্বৈরাচারী আমলে জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।”
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুল ঢালী বলেন, “বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট কোনোভাবেই কাটছেই না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, অ্যাকাডেমিক ও অবকাঠামো—সব দিক থেকেই আমরা ববিয়ানরা ভুক্তভোগী। গত বছর এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই অযোগ্যতার দরুন ট্রেজারার পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছিল, বছর ঘুরতে না ঘুরতেই তাকেই আবার ভিসি হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। তীব্র নিন্দা জানাই ইউজিসির প্রতি। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো যোগ্য ব্যক্তিকে ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়নি, ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকটাপন্ন অবস্থার কখনো নিরসন হয়নি। ধারণা করছি, এই অযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগের ফলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাগ্য পূর্বের মতোই বহাল থাকবে! আমরা এই নিয়োগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দ্রুত সৎ, যোগ্য এবং চৌকস একজন উপাচার্যের নিয়োগের দাবি জানাই।”
জাতীয় ছাত্রশক্তির ববি শাখার আহ্বায়ক মোঃ বেলাল বলেন, “নতুন ভিসি নিয়ে স্টুডেন্টদের মধ্যে আমরা একটা বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখতে পাচ্ছি এবং এটা স্বাভাবিক। দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা তাদের যোগ্য কোনো অভিভাবক পাচ্ছে না। সবাই জানত ভিসি দলীয় নিয়োগই হবে, তবে এমনটা কেউ আশা করেনি। আমাদের প্রত্যাশা ছিল সরকার যোগ্যতাসম্পন্ন একজন লোককে নিয়ে আসবে, কিন্তু আনলেন দলীয় ক্যাডার! যেটা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট হিসেবে আমাদের আরও বেশি ভাবিয়ে তুলছে।”
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের আদেশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. সুলতান আহমেদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আগামী ৪ বছরের জন্য তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
মন্তব্য করুন