
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) শারিরীক শিক্ষা দপ্তরের উপ-পরিচালক সেলিনা বেগমকে আগামী ছয় ঘন্টার মধ্যে স্থায়ী বহিষ্কার করার দাবি জানিয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল টিমের খেলাওয়াররা।
বৃহস্পতিবার ( ১৪ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় টিমের খেলোয়াড়রা উপাচার্যের কাছে লিখিত আবেদনে এই দাবি জানান। এর আগে খেলোয়াড়রা উপাচার্যের সাথে সাক্ষাৎ করে শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। লিখিত অভিযোগে শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের সকল কর্মচারীও স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানানো হয়।
গত ১৩ই এপ্রিল আন্ত:বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল খেলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে মাঠে উপস্থিত হয়েও খেলতে পারেননি শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের এই কর্মকর্তার অসহযোগিতার কারনে। এছাড়াও সেলিনা বেগম নিয়মিত অফিস করেননা এবং প্রতিটা বিষয়ে তিনি খেলোয়াড়দের অসহযোগিতা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগেগুলো উল্লেখ করা হয়েছে,
১। আন্তঃ বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট উপলক্ষে প্রাক্টিস চলাকালীন সময় শারীরিক শিক্ষা ম্যামকে একদিনও মাঠে পাওয়া যায়নি বা কোন রকম খোঁজ-খবরও নেয়নি।
২। শারীরিক শিক্ষা অফিস কর্তৃক আন্তঃ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগীতার ফরম সেলিনা বেগম সম্পাদন করেনি।
৩। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান কালে কোন খোঁজ-খবর নেয়নি।
৪। নিয়মিত অফিস না করার কারনে, আমাদের কোন প্রয়োজনে অফিসে গেলে গেলে তাকে অফিসে পাওয়া যায়না। এমনিক ফোন দিলেও রিসিভ করেনা।
৫। ফুটবল খেলোয়াড়রা ক্রীড়া সরঞ্জাম আনতে গেলে খেলোয়ারদের সাথে দূর্ব্যবহার করে।
৬। আন্তঃ বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা বারবার দেওয়ার জন্য অনুরোধ করলেও সে কোনভাবে সাহায্যে করেনি। এমনকি তাকে ফোন দেওয়া হলে সে ফোনও ধরেনি।
৭। ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীরিক শিক্ষা অফিসে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শারীরিক শিক্ষা অফিস থেকে মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছে।
৮। রেজিস্টার অফিসের সীল এবং স্বক্ষর নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করেনি।
৯। শাহাজাদা কখনও মাঠের পরিচর্যা করেনা এবং খেলোয়ারদের সাহায্য করেনা। যদি ওনাকে মাঠের কাজের কথা বলা হয় তখন উনি বলে, “আমি ৪র্থ গ্রেড থেকে ৩য় গ্রেডে পদোন্নতি পেয়েছি তাই আমার এই কাজ ৩য় গ্রেডের সাথে যায় না”।
১০। সেলিনা (শারীরিক শিক্ষা ডেপুটি ডিরেক্টর) খেলোয়ারদেকে সরাসরি হুমকি দেয় যে, “আমি খোঁচা দিলে সামলাতে পারবানা”।
১১। আয়োজক কমিটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যায়ের কাছে খেলোয়ারদের তথ্য এবং নথিপত্র থাকবে। কিন্তু অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে, এই অতি গোপনীয় নথি থাকা সম্ভব নয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় খেলার মাঠে অবস্থানের পূর্বে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল টিমের খেলোয়াড়রা বৈধ থাকা সত্ত্বেও তাদেরকে অবৈধ বলেন। বার্তা প্রেরক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিরেক্টর, যেটা কোন ভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিরেক্টরের বা অন্য করোও জানার কথা না। তারা এটাও জানান, যে তাদের এসব বিষয় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শারীরিক শিক্ষা দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে।
দাবি সমূহঃ
১। আগামী ৬ ঘন্টার মধ্যে শারীরিক শিক্ষা অফিসের সেলিনা বেগমকে স্থায়ী ভাবে বহিষ্কার করতে হবে।
২। শাহাজাদাকে দপ্তর পরিবর্তন করতে হবে। যে সার্বক্ষনিক মাঠের কাজে নিয়োজিত থাকতে পারবেন তেমন একজন দক্ষ লোক নিযুক্ত করতে হবে।
৩। অভিজ্ঞ সম্পন্ন শারীরিক প্রশিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে।
এছাড়াও শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের এই কর্মকর্তা সেলিনার বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় নিয়মিত অফিস না করা, বিভিন্ন পুরুষের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলে তাদের সর্বস্ব লুটে নেয়া। এসব বিষয়ে সেলিনার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে। প্রতারনার একটি মামলায় কয়েকমাস আগে সেলিনাকে জেল হাজতে প্রেরণ করে আদালত।
মন্তব্য করুন