
যে শহর পরিচিত তার শান্তির জন্য, যে মাটির সুবাসে মিশে থাকে আতিথেয়তা, সেই নওগাঁর বাতাসে আজ বিষাদের ছায়া। খবরের কাগজের পাতায় যখন ‘ধর্ষণ’, ‘নির্যাতন’ আর ‘নিরাপত্তাহীনতা’ শব্দগুলো বড় বড় অক্ষরে ফুটে ওঠে, তখন লজ্জিত হয় মানবতা, থমকে যায় এই জনপদের স্বাভাবিক ছন্দ। প্রশ্ন জাগে মনে—নওগাঁর এই শান্ত জনপদে অন্ধকারের এই মিছিল থামবে কবে?
আমাদের মা-বোনেরা যখন ঘরের বাইরে বের হতে ভয় পান, যখন নিরাপত্তা শব্দটি কেবল অভিধানেই সীমাবদ্ধ থাকে, তখন আমাদের উন্নয়ন আর আধুনিকতা অর্থহীন হয়ে পড়ে। নওগাঁর মেঠো পথে আজ কেবল ধানের ঘ্রাণ নেই, মিশে আছে বিচার না পাওয়া অনেক চাপা আর্তনাদ। লোকলজ্জা আর অপবাদের ভয়ে কতশত দীর্ঘশ্বাস যে রাতের অন্ধকারে মিলিয়ে যায়, তার খবর কি আমরা রাখি?
একটি অপরাধ যখন ঘটে, তখন কেবল একজন ব্যক্তি লাঞ্ছিত হয় না, লাঞ্ছিত হয় পুরো সমাজ। অপরাধীরা যখন আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যায়, তখন সাধারণ মানুষের মনে জন্ম নেয় পাহাড়সম ক্ষোভ আর অনিরাপত্তাবোধ। আইন-শৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে মানুষের এই গভীর উদ্বেগ কেবল কথার কথা নয়, এটি প্রতিটি পরিবারের ভেতরের এক নীরব আতঙ্ক। আমরা কি তবে এমন এক নওগাঁ গড়ছি, যেখানে অন্ধকারের পর আর সকাল হবে না?
কেবল সিসিটিভি ক্যামেরা বা পুলিশের টহল দিয়ে সমাজকে নিরাপদ করা সম্ভব নয়, যদি না আমরা আমাদের মানসিকতা পরিবর্তন করি। আসুন, নওগাঁর প্রতিটি মানুষ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই—আমরা কোনো অপরাধীকে আশ্রয় দেব না, কোনো নির্যাতিতার আর্তনাদকে চাপা পড়তে দেব না। নারীর প্রতি সম্মান জানানো কোনো করুণা নয়, এটি আমাদের মৌলিক দায়িত্ব।
নওগাঁর আকাশ আবার নীল হবে, এখানকার মানুষের হাসিতে আবারও শান্তির প্রতিফলন ঘটবে—এটাই আমাদের একমাত্র চাওয়া। কিন্তু সেই দিনটি আসার জন্য আজ আমাদের বিচারহীনতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। আমরা চাই না আর কোনো বোন অপবাদের ভয়ে কুঁকড়ে থাকুক, আমরা চাই না আর কোনো মা তার সন্তানের নিরাপত্তার চিন্তায় নির্ঘুম রাত কাটাক। নওগাঁ হোক নিরাপদ, নওগাঁ হোক কলঙ্কমুক্ত।
মন্তব্য করুন