
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক মোটরসাইকেল চালকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৮টা ১০ মিনিটে সোনাইমুড়ী-চাটখিল মহাসড়কের সোনাইমুড়ী পৌরসভার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের উত্তর পাশে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তি মোঃ কামরুল হাসান পেয়ার (৩৭)। তিনি উপজেলার নদনা ইউনিয়নের উত্তর শাকতলা গ্রামের বাসিন্দা এবং আনোয়ার হোসেনের পুত্র। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন পরিচিত যুবক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনাকালে কামরুল হাসান পেয়ার তার মোটরসাইকেল নিয়ে সোনাইমুড়ী-চাটখিল সড়ক দিয়ে চলাচল করছিলেন। এসময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং তিনি গুরুতরভাবে আহত হন।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। খবর পেয়ে চন্দ্রগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মরদেহ উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
পুলিশ জানায়, নিহতের মরদেহ বর্তমানে চন্দ্রগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ প্রেরণের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
দুর্ঘটনার পর সড়কের একাংশে সাময়িকভাবে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং বর্তমানে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে আহাজারির পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, সড়কটিতে অতিরিক্ত গতিতে যান চলাচল এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ঘাটতির কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলমান রয়েছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন