
রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ফুটপাত থেকে চাঁদা আদায় ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঢাকা কলেজ ছাত্রদল ও স্থানীয় যুবদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যার পর বলাকা সিনেমা হলের সামনে এ সংঘর্ষ শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার দিকে ফুটপাত ও ভ্যানচালকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি হাতাহাতিতে গড়ায়। পরে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও রাতের দিকে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, পরবর্তী সময়ে নিউমার্কেট থানা যুবদলের সদস্যসচিব কে এম চঞ্চলের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে জড়ো হন। তাদের বিরুদ্ধে দেশীয় অস্ত্র, লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রিন্স খন্দকার, সুমন সিকদার, আহ্বায়ক সদস্য সাগর খান, সায়মন ইসলাম, ছাত্রদল সদস্য মুসফিকুর রহিম, শাকিব হাসান, ইমরান হোসেন এবং ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জিহাদুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আহত ছাত্রদল নেতা সুমন সিকদারের অভিযোগ, হামলার সময় আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাতে আঘাত করা হয়।
সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ও উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে সায়েন্সল্যাব, প্রিয়াঙ্গন শপিং সিটি ও আশপাশের এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অবস্থানের সৃষ্টি হয়। এ সময় কয়েকটি স্থানে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিউমার্কেট ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখে।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম জানান, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যার পর থেকে যুবদল ও ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে হামলা ও চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে যুবদলের সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
সূত্র: প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ।
মন্তব্য করুন