দূর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, আর তার ঢেউ এসে লাগছে দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোলে। আন্তর্জাতিক অস্থিরতার প্রভাব দেখিয়ে হঠাৎ করে বাড়ানো হয়েছে পণ্যবাহী ট্রাকের ভাড়া, যা ইতোমধ্যে বাণিজ্য খাতে চাপ তৈরি করেছে। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, এই বাড়তি পরিবহন ব্যয় শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের পকেটেই চাপ ফেলবেন।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি মাসের শুরু থেকেই বিভিন্ন রুটে ট্রাক ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে বেনাপোল থেকে ঢাকায় পণ্য পাঠাতে ২২-২৩ হাজার টাকা খরচ হতো, এখন একই রুটে গুনতে হচ্ছে ২৮-৩০ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রতিটি ট্রাকে অতিরিক্ত ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তি ব্যয় যোগ হয়েছে।
চট্টগ্রামগামী পরিবহনে ভাড়ার চাপ আরও বেশি। ১৫ টন পণ্য পরিবহনে আগে যেখানে ৩০-৩৫ হাজার টাকা লাগতো, বর্তমানে সেই খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০-৪২ হাজার টাকায়। সিলেট রুটেও একই ধরনের ভাড়া বৃদ্ধির চিত্র দেখা গেছে।
হঠাৎ এই বাড়তি ভাড়ায় দিশেহারা ব্যবসায়ীরা। বেনাপোল থেকে ঢাকাগামী ট্রাকচালক আবুল কাসেম বলেন, কয়েক দিনের মধ্যে ভাড়া ৫-৭ হাজার টাকা বেড়ে গেছে। এতে করে পরিবহন খরচ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে চালক আবদুস সোবহান বলেন, আগের তুলনায় প্রতি ট্রিপে ৫ হাজার টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। মালিকরা এই টাকা তুলতে গেলে পণ্যের দাম বাড়বে, এতে শেষ পর্যন্ত ভোক্তারই ক্ষতি।
তবে ভাড়া বৃদ্ধির পেছনে যে জ্বালানি সংকটের কথা বলা হচ্ছে, তা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে অনেকের। পরিবহন সংশ্লিষ্টদের একাংশ বলছেন, দেশে ডিজেলের বড় ধরনের ঘাটতি নেই, বরং কিছু অসাধু মহল পরিস্থিতিকে কাজে লাগাচ্ছে।
বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আজিম উদ্দিন গাজীর ভাষ্য, তেলের পুরোপুরি সংকট না থাকলেও অনেক সময় পাম্পে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ মিলছে না। এতে পরিবহন ব্যয় বাড়ছে।
অন্যদিকে, বেনাপোল আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, প্রতিদিন এই বন্দর দিয়ে শত শত ট্রাক পণ্য ওঠানামা করে। কিন্তু হঠাৎ করেই ২ এপ্রিল থেকে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীরা চাপে পড়েছেন, আর এই চাপ শেষ পর্যন্ত বাজারে পড়বে।
যশোর চেম্বার অব কমার্সের যুগ্ম সম্পাদক এজাজ উদ্দিন টিপু বলেন, জ্বালানির সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও কিছু গোষ্ঠী মজুদ তৈরি করছে। ফলে কৃত্রিম সংকটের সুযোগ নিয়ে পরিবহন খাতে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, দ্রুত এই অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিত্যপণ্যের বাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
মন্তব্য করুন