
নগরবাসীর নির্বিঘ্ন যাতায়াত ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ফের কঠোর অবস্থানে নেমেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। এরই ধারাবাহিকতায় নগরীর ব্যস্ততম নিউমার্কেট থেকে সদরঘাট এলাকা পর্যন্ত এক বিশেষ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে প্রায় ২০০টি অবৈধ টং দোকান ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) কোতোয়ালী থানাধীন নিউমার্কেট মোড় থেকে শুরু করে ওমর চাঁদ রোড হয়ে সদরঘাট রোড পর্যন্ত এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন চসিকের স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) মোঃ সোয়েব উদ্দিন খান।
সাধারণ মানুষের ভোগান্তি নিরসনে পদক্ষেপ
দীর্ঘদিন ধরে এই সড়ক ও ফুটপাতগুলো অবৈধভাবে দখল করে রেখেছিলেন স্থানীয় ভাসমান ব্যবসায়ীরা। এর ফলে ওই এলাকায় তীব্র যানজটের পাশাপাশি পথচারীদের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল। চসিকের এই আকস্মিক অভিযানের পর রাস্তার দুপাশের ফুটপাত সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করে সাধারণ জনগণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
অভিযান চলাকালে পেশোয়ার দালিম হোটেলের সামনে ড্রেনের ওপর অবৈধভাবে তৈরি করা লোহার অ্যাঙ্গেল ও কাঠামো অপসারণ করে জব্দ করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া ওমর চাঁদ রোড এলাকায় ফুটপাত দখল করে ব্যবসা না করার জন্য সাইকেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং তাদের মাধ্যমে সাধারণ ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়।
অভিযান প্রসঙ্গে স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সোয়েব উদ্দিন খান জানান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় নগরীকে সুশৃঙ্খল ও বাসযোগ্য করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “জনগণের হাঁটার পথ অবৈধভাবে কাউকে দখল করতে দেওয়া হবে না। মেয়র মহোদয়ের স্পষ্ট বার্তা—জনসাধারণের পথ জনসাধারণের জন্যই উন্মুক্ত থাকবে। আজ উচ্ছেদ করা হলো, কাল আবার বসে যাবে—এমনটা হতে দেওয়া হবে না। যারা উচ্ছেদের পর আবারও ফুটপাত বা সড়ক দখলের চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত চলমান থাকবে।”
ম্যাজিস্ট্রেট আরও উল্লেখ করেন যে, সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন চট্টগ্রাম গড়তে শুধু প্রশাসনের তৎপরতাই যথেষ্ট নয়, নাগরিকদেরও এগিয়ে আসতে হবে। কোথাও ফুটপাত দখল হতে দেখলে সচেতন নগরবাসীকে তাৎক্ষণিকভাবে চসিক কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুরোধ করেন তিনি।
অভিযানটি সফলভাবে পরিচালনায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) একটি দল সার্বিক নিরাপত্তা ও সহযোগিতা প্রদান করে।
মন্তব্য করুন