
ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে রডবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন। আজ সোমবার (২৫ মে) ভোররাতে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার যমুনা সেতুর পূর্বপাড়ের সড়কের সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় নিহত ১৫ জনের মধ্যে ১৩ জনেরই পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা সবাই নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভারশো ইউনিয়নের রাজেন্দ্রবাটি এবং চিকলাভোলা গ্রামের বাসিন্দা। ধান কাটার কাজ শেষে দলবদ্ধভাবে ট্রাকে করে তারা বাড়ি ফিরছিলেন। বাকি দুজনের বাড়ি রাজশাহীর চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকায় বলে জানা গেছে।
হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা লোহার রডবোঝাই একটি ট্রাক অতিরিক্ত যাত্রী (হিটহাইকার বা লিফট নেওয়া যাত্রী) নিয়ে উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টা থেকে ৬টার দিকে ট্রাকটি কালিহাতীর সড়কের সরাতৈল এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এতে দ্রুতগতির ট্রাকটি সড়কের পাশে খাদে উল্টে যায়। ট্রাকের ওপর থাকা ভারী লোহার রড এবং গাড়ির কাঠামোর নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই ১৫ জন মারা যান।
খবর পেয়ে এলেঙ্গা ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় আটকা পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করেন।
এলেঙ্গা ফায়ার স্টেশনের ইনচার্জ আতাউর রহমান জানান, ধারণা করা হচ্ছে অতিরিক্ত গতি এবং চালকের অসতর্কতা বা ঘুমের ঘোরের কারণে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে উল্টে যায়।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফৌজিয়া হাবিব খান দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “ট্রাকটি যাত্রী নিয়ে চলার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে। ঘটনাস্থলেই ১৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”
এদিকে ১৩ জন শ্রমিকের মৃত্যুর খবর নওগাঁর মান্দা উপজেলায় পৌঁছালে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আক্তার জাহান সাথী নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। স্বজনহারা পরিবারগুলোর মধ্যে এখন চলছে মাতম।
মন্তব্য করুন