
টানা চার দিনের ভারী বর্ষণের পর রাঙ্গামাটিতে বৃষ্টি কমেছে। তবে পাহাড়ধসের ঝুঁকি এখনও পুরোপুরি কাটেনি বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। মাটি শক্ত না হওয়া এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রাঙ্গামাটি জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত জেলার ৩০টি আশ্রয়কেন্দ্রে মোট ২ হাজার ১৫৮ জন আশ্রয় নিয়েছেন।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, টানা বৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় মিলিয়ে ৬০টি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে কাউখালী উপজেলায় ৩০টি, কাপ্তাই উপজেলায় ১৫টি, রাঙ্গামাটি সদর উপজেলায় ১০টি, বাঘাইছড়ি উপজেলায় ৩টি এবং নানিয়ারচর উপজেলায় ২টি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার রাতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন রাঙ্গামাটির কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি আশ্রয় নেওয়া মানুষের খোঁজখবর নেন এবং বলেন, পাহাড়ি জেলার দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে রাঙ্গামাটির জন্য ৫০০ মেট্রিক টন এবং খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের জন্য ৪০০ মেট্রিক টন করে মোট ১ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে টানা বৃষ্টিতে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট একযোগে চালু করা হয়েছে। এতে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়ে ১৪৪ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে। ফলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে। তবে যেসব এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেছে বা বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে, সেসব এলাকায় মেরামত কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকতে পারে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, আপাতত বৃষ্টি না থাকলেও পাহাড়ের মাটি এখনও নরম ও ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। তাই নতুন করে পাহাড়ধসের আশঙ্কা এড়াতে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের ঢাল ও পাদদেশে বসবাসকারীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন