
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় মারধর ও জোরপূর্বক বিষাক্ত পদার্থ খাওয়ানোর অভিযোগে ইউসুফ আলীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে চরভদ্রাসন থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট ২০২৬) পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) ও চরভদ্রাসন থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সফর আলী-এর দিকনির্দেশনায় এসআই (নিরস্ত্র) মো. এনামুল হক খান সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ রাত্রিকালীন কিলো-৫ ডিউটি ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে গাজীরটেক ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থান থেকে হত্যা মামলার চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন
১. শামীম হোসেন (২৫), পিতা: মৃত শেখ সাত্তার, সাং- চরঅমরাপুর, চরভদ্রাসন।
২. ইয়াসমিন আক্তার (৩৪), স্বামী: আরিফ হোসেন, পিতা: মৃত শেখ সাত্তার, সাং- চরব্রাক্ষনদী, সদরপুর।
৩. আক্কাস মোল্যা (৬০), পিতা: মৃত দুদু মোল্যা।
৪. জুলহাস (৩৫), পিতা: আক্কাস মোল্যা।
শেষ দুইজনের বাড়ি ওকেল মাতুব্বরের ডাঙ্গী, চরভদ্রাসন, ফরিদপুর।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা চরভদ্রাসন থানার এফআইআর নং-০২, তারিখ ৪ আগস্ট ২০২৬, দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় দায়ের করা হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। তাদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের স্বার্থে ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, নিহত ইউসুফ আলীর স্ত্রী বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়, গত ১ আগস্ট রাতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ইউসুফ আলীকে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয় এবং জোরপূর্বক বিষাক্ত পদার্থ পান করানো হয়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়, পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ আগস্ট ভোরে তার মৃত্যু হয়।
পরিবারের দাবি, মৃত্যুর আগে ইউসুফ আলী একটি ভিডিও বক্তব্যে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে অভিযুক্তদের নাম উল্লেখ করেছিলেন। সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই হত্যা মামলা দায়ের হয় এবং পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে।
চরভদ্রাসন থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন