
নিজের হল বাদ দিয়ে অবৈধভাবে অন্য হলে অবস্থান করার অভিযোগ উঠেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রশিবিরের এইচআরডি সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। জানা গেছে, মুজাহিদ মূলত সাদ্দাম হোসেন হলের শিক্ষার্থী। তবে তিনি সিট পরিবর্তন ছাড়াই অবৈধভাবে শহীদ জিয়া হলের ৩২৩ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছেন। সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে তিনি ওই হলে অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভের জানিয়েছেন।
জানা গেছে, শহিদ জিয়া হল প্রশাসন আসন বরাদ্দ দিলেও অনেক শিক্ষার্থী এখনো নির্ধারিত কক্ষে উঠতে পারেননি। একইসঙ্গে কয়েকটি কক্ষে আসন ফাঁকা থাকলেও সেখানে নতুন করে বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, হলের বিভিন্ন কক্ষে দীর্ঘদিন ধরে অননুমোদিতভাবে কিছু শিক্ষার্থী ও অন্য হলের আবাসিকরা অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। এতে বৈধভাবে আসন পাওয়া শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, ইবি শাখা ছাত্রশিবিরের এইচআরডি সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সাদ্দাম হোসেন নিজের আবাসিক হল না হয়েও দীর্ঘদিন ধরে শহিদ জিয়া হলের ৩২৩ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছেন। তিনি মূলত সাদ্দাম হোসেন হলের শিক্ষার্থী। তবে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে তিনি জিয়া হলে অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে
৩২৩ নম্বর কক্ষে ১টি ফাঁকা সিটে বরাদ্দ পেয়েছেন আল কুরআন বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ফাহিম সিদ্দিকী। তবে তিনি তার বরাদ্দকৃত রুমে না থেকে অন্য রুমে অবস্থান করছেন। তার রুমে অবস্থান করছেন বাংলা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের রিফাত ইসলাম। তিনি ৪১৫ নম্বর কক্ষে আবাসিক শিক্ষার্থী।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বলেন, অনেক বৈধ শিক্ষার্থী সিট পাওয়ার পরও নির্ধারিত কক্ষে উঠতে পারছেন না, অথচ কিছু কক্ষ ফাঁকা পড়ে আছে। পাশাপাশি অন্য হলের শিক্ষার্থীরাও হলে অবস্থান করছেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে প্রশাসন কিছু শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে নতুন করে সিট বরাদ্দ দিচ্ছে না, কিন্তু একই সঙ্গে অননুমোদিতভাবে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের বৈধতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আমরা প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে তারা অবিবেচনাপ্রসূত কার্যক্রম হিসেবে দেখছি।
শাখা ছাত্রশিবিরের এইচআরডি সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রভোস্টের অনুমতি নিয়েই জিয়া হলের শিক্ষার্থী শাহরিয়ারের সঙ্গে রুম একচেঞ্জ করেই তার রুমে ছিলাম। বর্তমানে আমি সেখানে থাকি না, গত তিনমাস ধরে মেসে আছি। আর শাহরিয়ার আমার বৈধ আসনে অবস্থান করছেন। কিছুদিন পর আমরা আবার নিজ নিজ হলে ফিরে যাবো।
এ বিষয়ে প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আব্দুল গফুর গাজী বলেন, হল কর্মকর্তাদের সংগ্রহ করা ভুল তথ্যে এ ধরনের সমস্যা হয়েছে। ইতোমধ্যে তাদেরকে শোকজ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। অতিদ্রুত সবগুলো সিটের পুনঃতালিকা করা হবে। অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন