
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে এ বছর ভুট্টার বাম্পার ফলন হয়েছে। ধান, গমের চেয়ে ভুট্টা আবাদে খরচ কম এবং লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা ভুট্টা চাষে মনোযোগ দিয়েছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার সিদলা, জিনারী, গোবিন্দপুর, সাহেদল, আড়াইবাড়িয়া, পুমদীতে মাঠে-মাঠে ভুট্টার আবাদ গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি হয়েছে৷ ভুট্টা চাষে খরচ কম৷ ফলন ও দাম বেশি পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে ভুট্টা চাষের আগ্রহ বেশি দেখা গেছে। ভুট্টা থেকে মাছ ও মুরগির খাদ্য উৎপাদন এবং গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় এটি লাভজনক হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে ভুট্টা চাষে আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।
সিদলা ইউনিয়নের কৃষক হাসেন আলী জানান, “অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি গত বছর ভুট্টা চাষ করেছিলাম। ভালো দাম পাওয়ায়, এ বছর ভুট্টার চাষ বাড়িয়েছি। বৃষ্টির কারনে হালকা থমকে পড়েছি। তারপরেও যদি ভুট্টার দাম ঠিক থাকে তাহলে এ বছরেও বেশ লাভবান হবো।
জিনারীর চাষি শরাফত আলী বলেন, ভুট্টা বিক্রি করা, কাঁচা পাতা গবাদিপশুকে খাদ্য হিসেবে খাওয়ানো এবং গাছ শুকিয়ে লাকড়ি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। ভূট্টা চাষের খরচ খুবই সীমিত ও সহজ। রোগ বালাই এর ঝুঁকি খুব কম।
এ বিষয়ে হোসেনপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ মোহসীন জানান, এ বছর উপজেলায় ১ হাজার ২১০ হেক্টর ভুট্রা চাষ করা হয়েছে। গত বছর ছিলো ৭ শত ৭০ হেক্টর, সে তুলনায় এ বছর বেড়েছে ৩৪০ হেক্টর।
তিনি আরো বলেন, “আমরা বরাবরই কৃষকদের ভুট্টা চাষে প্রণোদনা দিয়ে আসছি। ভুট্টা চাষে লাভ বেশি, খরচ কম। তা ছাড়া জমি পড়ে থাকার চেয়ে আমরা কৃষকদের ভুট্টা চাষে আগ্রহী করছি। এতে তারাও অনেক বেশি লাভের মুখ দেখছেন। ভুট্টার ফলন ঘরে ওঠাতেও আমরা বিভিন্ন কাটার মেশিন তাদের বিনামূল্যে হস্তান্তর করেছি। আশাকরি এ বছরও অধিক লাভের মুখ দেখবেন এখানকার ভুট্টা চাষিরা। এ উপজেলা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে সোনালি ফসল ভুট্টা।
তিনি আরও জানান, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের দেয়া হয়েছে বিনা মূল্যে সার ও বীজ। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও পোকা মাকড়ের আক্রমণ কম হওয়ায় ভুট্টার বাম্পার ফলন হয়েছে।
মন্তব্য করুন